ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহের ভাইপো জয় গুহ। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের হাত ধরে শনিবার বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়েই জয় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের। তাঁর কথায়, দিনহাটার মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। আর তাই দলে দলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন জয় গুহ। যদিও জয়ের বিজেপি যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকী এই সমস্ত বিষয় আগামিদিনে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি তৃণমূলের।
তৃণমূলের পতাকা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে জয় গুহ বলেন, ''বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে ছাত্র জীবন থেকে জড়িত ছিলাম। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। কিন্তু তৃণমূলের উন্নয়ন মানে কাটমানি। তাইতো তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলাম।'' তাঁর কথায়, তৃণমূলের রাজত্বকালে এ বাংলার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ বাংলার যে পূর্বের গৌরব তা ফিরিয়ে আনতে হবে। যে কাজ ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষেই সম্ভব। আর তাই আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে জেতানোর বার্তা দেন জয়।
যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ দিনহাটা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মন্ত্রী উদয়নের ভাগ্নে নীলাঞ্জন ব্রহ্ম। ভোটের আগে এই সমস্ত করে সস্তার রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তাঁর। নীলাঞ্জন ব্রহ্ম বলেন, ''উন্নয়নের নিরিখে উদয়ন গুহকে কেউ হারাতে পারবে না। দিনহাটার মানুষের মনে এই ঘটনা কোনও প্রভাব ফেলবে না।'' তাঁর কথায়, দিনহাটায় উদয়ন গুহ যেভাবে উন্নয়ন করেছে তাতে মানুষ ভোট দিতে গিয়ে অন্য কিছু চিন্তাভাবনা করবে না। নীলাঞ্জন ব্রহ্মের অভিযোগ, ২০২৪ সালেও হঠাৎ করে একজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে বলা হল তিনি নাকি উদয়ন গুহর ভাগ্নি। বিজেপিতে গিয়ে উদয়নগর সম্পর্কে কুৎসা রটাতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুই হয়নি। লড়াই উন্নয়নের নিরিখেই হওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য তৃণমূল নেতার।
বলে রাখা প্রয়োজন, এবারও দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী উদয়ন গুহ। অন্যদিকে অজয় রায়কে এবার এই কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। শুরু হয়ে গিয়েছে জোরদার প্রচার। এর মধ্যেই উদয়ন গুহের ভাইপোর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন দিনহাটার রাজনৈতিক মহল।
