দুর্গাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম কেন্দ্রে তৃণমূলের বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হল রাজ্যের তৃণমূলের সহ-সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশুকে। একদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কাঁটা। আবার অন্যদিকে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র বিজেপির দখলে। দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে কোনও খামতি নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কখনও পদযাত্রা আবার কখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগ। এরই ফাঁকে ফাঁকে দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী রণনীতি তৈরি করছেন দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। সব কিছু ঠিক থাকলেও একাধিক দলীয় কর্মী, নেতা ও নেত্রী প্রচারে নামেননি। তাতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোতের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এমনকী অন্তর্ঘাতের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না! কার্যত সেদিকে তাকিয়েই অন্যতম দুই কেন্দ্রের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ শাসকদলের। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে প্রচার শুরু হলেও প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল প্রচারে নেই। তাঁকে বোঝাতে প্রার্থী-সহ হেভিওয়েটরা তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি। আবার অনেক সক্রিয় কর্মীকে তৃণমূল প্রার্থী কবির পাশে দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিকমহলের একাংশের কথায়, যাদের দেখা যাচ্ছে তারা কেউ 'ভোট ক্যাচার' নন! শুধু পশ্চিম নয়, পূর্বেও ছবিটা এক। তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের বয়েস হয়েছে। মনোনয়ন শুরু হলেও সেভাবে প্রচার এখনও জমেনি পূর্বে। সেখানেও গোষ্ঠী কাঁটা বিঁধতে পারে শাসককে। বহু প্রাক্তন কাউন্সিলর ময়দানে নেই। বিষয়টি উপলব্ধি করেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা কমিটির সভাপতি শিবদাসন দাশুকে দুর্গাপুর পশ্চিম ও পূর্ব কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিলেন।
শনিবার অন্ডালের খান্দরার সভা মঞ্চে উঠে দাসুকে ডেকে নিয়ে মমতা জানিয়ে দেন, "তাঁর এখানে প্রয়োজন নেই"। দুর্গাপুরে যাওয়ার নির্দেশ দেন দলনেত্রীর আস্থাভাজন দাশুকে। তৎক্ষনাৎ মঞ্চ থেকে নেমে সোজা দুর্গাপুরে কবি দত্তর নিবাচনী কার্যালয়ে চলে যান দাসু। এখন থেকে প্রতিদিন সকালে আসানসোল থেকে দুর্গাপুরে কবি দত্ত ও প্রদীপ মজুমদারের নির্বাচনী কার্যালয়ে আসবেন দাশু। রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুর্গাপুরের দুই কেন্দ্রে দলীয় কর্মীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন দাশু। কোথায় খামতি হচ্ছে। কী ভাবে ঘাটতি পূরণ করা যাবে। এসব খুটিনাটি বিষয়ে নিয়েই দুর্গাপুরের দুই কেন্দ্রে নজর রাখতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি দলের কোন কর্মী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন না। কে বা কারা অন্তর্ঘাত করতে পারে তাও নজর রাখবেন তিনি। এদিন কবি দত্তর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষন গোপন বৈঠক করেন দাসু।
বৈঠক শেষে ভি শিবদাসন দাশু বলেন, "দিদি আমাকে ডেকে বলে দিলেন এখন থেকে দুর্গাপুর পশ্চিমের দায়িত্ব নিতে হবে। আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যা দায়িত্ব দেবে তা পালন করতে বাধ্য আমি। আমি খান্দরার জনসভার মঞ্চ থেকে নেমে সোজা দুর্গাপুরে চলে এলাম। এখন থেকে প্রতিদিন সকালে দুর্গাপুরে আসব।"
