ঘুমের মধ্যে নানা ধরনের স্বপ্ন দেখেন অনেকে। কেউ কেউ স্বপ্নকে গুরুত্ব দিতেই চান না। আবার কারও কারও মতে, স্বপ্নের রয়েছে হাজার অর্থ। বিশেষত জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল স্বপ্নশাস্ত্র। যেমন মহাশিবরাত্রির আগে শিবের স্বপ্নের যেন আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। দেবাদিদেবের সংকেত অবহেলা করবেন না। তাতে নাকি হতে পারে মহাবিপদ!
স্বপ্নে কালো শিবলিঙ্গ দেখেছেন? দেখলে ভয় পাবেন না। বরং স্বপ্নশাস্ত্র বলছে, এই স্বপ্নের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতি ও সাফল্যের সংকেত। এই স্বপ্ন দেখার পর নাকি আপনার কর্মজীবন অন্য মোড় নিতে পারে।
মহাদেবের বাহন নন্দীও অনেকের স্বপ্ন দেখা দেয়। তা-ও অত্যন্ত শুভ। আপনার জীবনে স্থিতিশীলতা ও সাফল্যের প্রতীক এই স্বপ্ন।
শিবমন্দিরের স্বপ্ন আবার সুখ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। এই স্বপ্ন দেখলে আপনার জীবনে বড় সমস্যা দূর হতে পারে। অর্থযোগও হতে পারে।
শিবের সঙ্গে রুদ্রাক্ষের সম্পর্ক রয়েছে। রুদ্রাক্ষের স্বপ্ন অসুখ থেকে মুক্তির ইঙ্গিত দেয়। নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়ে ইতিবাচকতায় ভরে উঠবে আপনার জীবন।
বেলপাতা ও বেলগাছ অর্থপ্রাপ্তির প্রতীক। তাই এমন স্বপ্ন দেখলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং উন্নতির সংকেত হতে পারে এই স্বপ্ন।
শিবলিঙ্গে জল ঢালার স্বপ্নও দেখেন কেউ কেউ। স্বপ্নশাস্ত্র বলছে, এই স্বপ্ন দেখা মানে শিবের আশীর্বাদ সবসময় আপনার সঙ্গে রয়েছে। আর তার মানেই জীবনে সুখশান্তি, সমৃদ্ধির কোনও অভাব হবে না।
এই স্বপ্নগুলি দেখলে অবশ্যই শিবরাত্রির পুণ্যতিথি মহাদেবের আরাধনা করুন। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ভগবান শিবের মাথায় জল ঢাললে জীবনের ঝড়ঝাপটা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। শিব-পার্বতীর আশীর্বাদে পূর্ণ হবে জীবন। সুখসমৃদ্ধি আসবে জীবনে। দাম্পত্য জীবনও হবে আরও সুখময়। তবে শিবরাত্রির ব্রতপালনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা প্রয়োজন।
কোন কোন নিয়ম মানা প্রয়োজন:
- শিবরাত্রির দিন ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠুন।
- ওইদিন নির্জলা উপবাসও করেন অনেকে।
- গরম জল এবং তিল দিয়ে স্নান সেরে নিন।
- পুজোর শুরুতে প্রথমে শিবলিঙ্গকে মধুমিশ্রিত দুধ দিয়ে স্নান করান।
- পুজোর উপকরণ হিসাবে অবশ্যই থাকতে হবে বেলপাতা, আকন্দ ফুল, কুমকুম এবং চন্দন।
- সূর্যাস্তের পর কিছু না খাওয়াই ভালো।
- অনেকেই শিবরাত্রিতে ঘুমোন না। সারারাত জেগে থাকেন।
- তিথি শেষে দুধ, ফল খেয়ে উপবাস ভাঙাই শ্রেয়।
