তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে সল্টলেকে সফলভাবে সম্পন্ন হল তিন দিনের বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম)-এর কম্পিউটার সায়েন্স ও আইটি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইইএম আইসিডিসি ২০২৬’ (IEM ICDC 2026) গত ১৮ মার্চ শেষ হয়েছে। সল্টলেকের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কস অফ ইন্ডিয়া চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দেশ-বিদেশের কয়েকশো গবেষক ও অধ্যাপক।
এবারের সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও তার সমাধান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে তিন দিন ধরে চলল চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্মেলনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দেবাশিশ সেন। তাঁর উপস্থিতিতে গবেষকদের গবেষণাপত্র এবং আলোচনার মান এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
এ বছরের সম্মেলনে শিক্ষা ও নেতৃত্বে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করা হয়। প্রখ্যাত অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী স্মারক পুরস্কারে ভূষিত হন আইএসআই কলকাতার অধ্যাপক নবনীতা দাস। পাশাপাশি, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবতোষ গুহ-কেও বিশেষ সম্মান জানানো হয়। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ স্বীকৃতির মুকুট ওঠে সিটিওই (CtoE) কনসালটেন্সি সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ দীপঙ্কর চক্রবর্তীর মাথায়।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা ছিল প্যানেল ডিসকাশন। জেনারেটিভ এআই কি নৈতিকভাবে এগোতে পারবে?—এই কঠিন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন প্রযুক্তি জগতের বিশেষজ্ঞ সুদীপ দাশগুপ্ত, অনিন্দিতা দে সরকার ও তপোময় কোলে। উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে এই আলোচনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এ ছাড়াও মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএসআই কলকাতার অধ্যাপক উৎপল গরাই, জাপানের রিউকোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ ওয়াতারু উয়ামুরা এবং টিসিএস-এর ডঃ অর্পণ পালের মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা। আইইএম-এর এই উদ্যোগ আগামীর ডিজিটাল বিশ্বের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
