অজয় দেবগনের আসন্ন সিনেমা 'চৌহান'-এর ঝলক প্রকাশ্যে আসার পরই মাথা চাড়া দিল চরম বিতর্ক। গোড়ায় কাশ্মীরের সংঘাতের প্রেক্ষাপট দেখানোয় জোড় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তবে এবার অভিনেতার সিনেমা নিয়ে সুর চড়াল ক্ষত্রিয় পরিষদ। আপত্তি উঠেছে অজয় দেবগনের সিনেমার নাম-স্লোগান নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক ভাবধারার স্বার্থচরিতার্থ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে 'চৌহান' শিরোনামটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমূহ রাজপুত সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে।
এহেন শিরোনামে রাজপুতদের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। রাজপুতরা যে সর্বধর্ম সমন্বয় এবং সম্মানে বিশ্বাসী, ঐতিহাসিক উদাহরণ দর্শিয়ে সেকথাও তুলে ধরেছে ক্ষত্রিয় পরিষদ।
অজয় দেবগন (Ajay Devgn) অভিনীত সিনেমার ঝলকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, 'পাঠানদের বলো চৌহান আসছে...'। আর এহেন উপস্থাপনা নিয়েই আপত্তি তুলেছে ক্ষত্রিয় পরিষদ। তাঁদের বক্তব্য, চৌহান গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে রাজপুতদের অংশ। আর সেই গোষ্ঠীকে ঢাল করেই রাজনৈতিক বিভাজন ও হিংসার উসকানি দিচ্ছে অজয়ের সিনেমা। সংশ্লিষ্ট মর্মে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে ক্ষত্রিয় পরিষদের তরফে এক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ, "এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, রাজপুত পরিচিতিকে আবারও এমন এক রাজনৈতিক বয়ানে জড়ানো হচ্ছে যা আদতে রাজপুতরা নিজেরাই সমর্থন করে না।" আসলে রাজপুতদের নাম করে পাঠানদের হুমকি ছোড়া নিয়েই আপত্তি তুলেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। তাঁদের আক্ষেপ, "বর্তমানে যেখানে ক্ষত্রিয়দের অভাব-অভিযোগ কিংবা সমস্যার কথা সেভাবে খবরের শিরোনামে উঠে আসে না, সেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থে কিংবা নিজস্ব স্বার্থচরিতার্থ করতে কেন আমাদের সম্প্রদায়ের নাম ব্যবহার করা হবে! শুধুই কি সাম্প্রদায়িক ক্ষোভ উসকে দিতে?" এহেন প্রশ্ন তুলেই 'চৌহান' নির্মাতাদের 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে কটাক্ষ করেছে ক্ষত্রিয় পরিষদ। পাশাপাশি এহেন শিরোনামে রাজপুতদের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। রাজপুতরা যে সর্বধর্ম সমন্বয় এবং সম্মানে বিশ্বাসী, ঐতিহাসিক উদাহরণ দর্শিয়ে সেকথাও তুলে ধরেছে ক্ষত্রিয় পরিষদ।
অজয় দেবগনের আসন্ন সিনেমা 'চৌহান'-এর ঝলক প্রকাশ্যে আসার পরই মাথা চাড়া দিল চরম বিতর্ক।
"এধরনের কর্মকাণ্ড ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচয় ব্যতীত আর কিছু নয়! খানুয়ার যুদ্ধে মেহমুদ লোদি মহারানা সাঙ্গার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলেন। হলদিঘাটির যুদ্ধে মহারানা প্রতাপের সেনাবাহিনীর একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাকিম খান সুর।..."
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য, "এধরনের কর্মকাণ্ড ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচয় ব্যতীত আর কিছু নয়! খানুয়ার যুদ্ধে মেহমুদ লোদি মহারানা সাঙ্গার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলেন। হলদিঘাটির যুদ্ধে মহারানা প্রতাপের সেনাবাহিনীর একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাকিম খান সুর। ফরিদ খান- যিনি পরবর্তীতে শের শাহ সুরি নামে পরিচিত হন, কর্মজীবনের গোড়ায় তিনি রাজা রাইসাল শেখাওয়াতের অধীনে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শুধু তাই নয়! পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদি বাহিনির হয়ে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন মহারাজা বিক্রমাদিত্য তোমর।" এহেন উদাহরণ তুলে ধরেই ক্ষত্রিয় পরিষদের অভিযোগ, 'পাঠানদের বলো চৌহান আসছে'- এহেন স্লোগানের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজপুতদের উপর সাম্প্রদায়িক উসকানির দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, "আমরা বিভাজন নীতিতে বিশ্বাসী নই।" যদিও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি, তবে অদূর ভবিষ্যতে অজয় দেবগন ক্ষত্রিয়দের আইনি রোষানলে পড়েন কিনা? নজর থাকবে সেদিকে।
তীব্র ধিক্কার জানিয়ে ক্ষত্রিয় পরিষদের তরফে এক বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
