অভিনেত্রী হিসেবে যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)। রিয়্যালিটি শো 'দিদি নম্বর ওয়ান' সেই জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যায়, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু, হুগলির সাংসাদ হিসেবে রাজনীতির ময়দানে মোটেই ফুল মার্কস পাননি। ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পরই ভোল বদলেছেন সাংসদ-অভিনেত্রী! সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। ঘাসফুলের অপর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্মুখ সমরে সামিল রচনা। তৃণমূল প্রসঙ্গে রচনার বিরুপ মন্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করে কল্যাণের খোঁচা, 'দিদি নম্বর ওয়ান'ও এখন অতীত। বাড়িতে দুধওয়ালা আর কাগজওয়ালা ছাড়া তো আর কেউ আসবে না।
এই মন্তব্য রচনার পালটা প্রতিক্রিয়া, আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা প্রয়োজন। দুই সাংসদের ঠাণ্ডা লড়াইয়ে তপ্ত সিনেপড়া। রচনাকে সাঁড়াশি আক্রমণ ঋত্বিক চক্রবর্তী, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্রের মতো টলি সেলেবদের। রচনার আর্বানা মন্তব্য ঋত্বিকের খোঁচা, 'শুনলাম কে নাকি বলেছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে পাশ করলে তবেই আরবানাতে চান্স পাওয়া যায়!' শ্রীলেখা মিত্রও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানতে চেয়েছেন, 'এই আরবানাত থাকার যোগ্যতা লিস্ট কেউ রেডি করলে পাঠাবেন। মিলিয়ে দেখব কার কার আছে।'
অভিনেতা-লেখক ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, 'আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে শুনলাম। তাহলে যারা অ্যাটমসফিয়ার বা ৪২তে আছেন তারা কী বলবেন?' অভিনেতা সুজয় প্রসাদ কমেন্ট বক্সে মজা করে লিখেছেন, 'আমি তো দক্ষিণে থাকি। ওটা ভীষণ অযোগ্য।' রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপর একটি 'বিতর্কিত' মন্তব্যে ফুঁসেছেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে রচনা অকপটে বলে দেন,'ফুটপাথের মেয়েকে কেন ভোটে দাঁড় করালেন না?' তাঁর এই ‘শ্রেণিবিদ্বেষী’ মানসিকতার তীব্র বিরোধীতা করেছেন কৌশিকপুত্র। তাঁর দাবি, 'রচনা ব্যানার্জি নিজের অপরিহার্যতা এবং ঠুনকো দম্ভের রচনা পড়তে পড়তে বললেন যে নির্বাচনে তার বদলে কোনো 'ফুটপাথের' বা 'গড়িয়াহাটের' মেয়েকে কেন দাঁড় করালেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই মনোভাব একমাত্র এবং একমাত্র এই রাজ্য,দেশ এবং পৃথিবীর সব থেকে বড় শত্রু।'
চর্চায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
'ফুটপাতের মেয়ে' এই শব্দবন্ধনীতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঋদ্ধি বলছেন, 'যে শাসক ফুটপাথের লোকের ভোটে জয়ী হয়, ফুটপাথে যায় ভোট চাইতে, ফুটপাথ আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই করা মানুষের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দেয় ঠিক তারাই বিশ্বাস করে যে ফুটপাথ থেকে উঠে আসা কোনও মেয়ের কোনওদিন মেম্বার অফ পার্লামেন্ট হওয়ার ক্ষমতা নেই।তারাই সবার আগে ফুটপাথের মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে বাসস্থান ভেঙে দেয় বুলডোজার দিয়ে।'
রচনার 'স্টার পাওয়ার'কে ফুৎকারে উড়িয়ে ঋদ্ধির সংযোজন, 'ভালো হলো,রচনা ব্যানার্জি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে গিয়ে একটি জিনিস প্রমাণ করলেন,উনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য। একদিন ঠিক সময়ে আসবে,ফুটপাথের মানুষ এদের পচে যাওয়া ষ্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্বকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে ফুটপাথে, গড়িয়াহাট,হাটে বাজারে। আসলে বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় শরীরটা,তার বহু আগেই শরীরের ভেতরে অবস্থিত মনটাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে 'ষ্টার পাওয়ার' মনোভাবের বুলডোজার।'
