shono
Advertisement
Ajit Pawar

ভি. শান্তারমের ক্লাসিক ছবিতে কাজ, প্রোডাকশন বয় থেকে রাজনীতির অলিন্দে অজিত

পরিবার চেয়েছিল বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ফিল্মিদুনিয়াতেই কেরিয়ার গড়ুক অজিত পওয়ার। কিন্তু অদৃষ্টের হিসেবই ছিল অন্য। হিন্দি সিনেমার স্টুডিওপাড়াকে কেন বিদায় জানান তিনি?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 03:16 PM Jan 28, 2026Updated: 05:52 PM Jan 28, 2026

রাজনীতির ময়দানে না এলেও হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে অনায়াসে কেরিয়ার গড়তে পারতেন অজিত পওয়ার। কিন্তু সিনে-গলি ছেড়ে কাকা শরদ পওয়ারকে 'আইডল' মেনে রাজনীতিকেই বেছে নেন তিনি। আজও অনেকের কাছে 'ফিল্মি অজিত' অচেনা। তবে শৈশব থেকেই সিনেদুনিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বাবা অনন্তরাও পওয়ারের হাত ধরে লাইট-ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় তাঁর। সেই সূত্রেই তৎকালীন বম্বের ফিল্ম স্টুডিওগুলির অলি-গলি চষে ফেলেছিলেন তরুণ অজিত (Ajit Pawar)। ক্যামেরার নেপথ্যের প্রযুক্তিগত যাবতীয় কারিকুরি, কৌশলীর হাতেখড়িও সেসময়েই। যদিও পরবর্তীতে কাকার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতির ময়দানে নাম লেখান, তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর ফিল্মি ইনিংস অন্তরালেই রয়ে যায়।

Advertisement

পওয়ার পরিবার চেয়েছিল অজিত বড় হয়ে ফিল্মি দুনিয়াতেই কেরিয়ার গড়ুক। কিন্তু অদৃষ্ট কষে রেখেছিল অন্য হিসেব। অজিতের বাবা অনন্তরাও পওয়ার ছিলেন ভি. শান্তারমের কাছের মানুষ। সেই সূত্রেই কিংবদন্তি পরিচালকের সেটে যাতায়াত শুরু হয় তরুণ অজিতের। সিনেমার প্রতি অনুরাগই তাঁকে কলাকুশলীবৃত্তে জনপ্রিয় করে তোলে। তার পর আর 'শুটিং পার্টি'র টিমে ঠাঁই পেতে দেরি হয়নি তাঁর। এরপর শান্তারামের টিমের সদস্য হিসেবে রাজকমল স্টুডিওয় কাজ শুরু করলেন অজিত পওয়ার। কিংবদন্তি পরিচালকের একাধিক ক্লাসিক সিনেমায় প্রোডাকশনের অংশ হিসেবে শুটিংয়ে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই তালিকায় যেমন 'ড. কোটনিস কি অমর কাহানি', 'দো আঁখে বরহ হাত', 'ঝনক ঝনক পায়েল বাজে' থেকে 'নবরং', 'দুনিয়া না মানে', 'অমর ভূপালি'র মতো ছবিও রয়েছে। জানা যায়, কর্মদক্ষতার জোরে ডিরেক্টর্স টিমের নজরেও পড়েছিলেন তরুণ পওয়ার। বম্বে সিনেপাড়ার স্টুডিওর কর্মব্যস্ততার মধ্যে এভাবেই বেড়ে ওঠা অজিতের।

অজিত পওয়ার, ভি শান্তারাম, ছবি-সংগৃহীত

শোনা যায়, অজিতের বাবা অনন্তরাও দীর্ঘদিন ফিল্মিদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্যামেরার নেপথ্যে থাকায় কোনও দিন সেভাবে কৃতীত্ব পাননি। হয়তো সেই না-পাওয়া থেকেই সিনেজগৎ থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন অজিত পওয়ার! তবে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করলেও পরবর্তীতে অজিতের সিনেমাপ্রেমে যে বিন্দুমাত্র ভাঁটা পড়েনি, সেটা বোঝা যায় নাসিক ফিল্ম সিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগে। মুম্বই থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে ইগাতপুরিতে এক বিশালাকার ফিল্ম সিটি তৈরি করতে চেয়েছিলেন অজিত। যেখানে হায়দরাবাদ ফিল্ম সিটির মতোই অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধে পেতেন প্রযোজক-পরিচালকরা। এই ফিল্মনগরীর মূল লক্ষ্যই ছিল, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সিনেনির্মাতাদের আকর্ষণ করা। ফলত বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের সিনেবাজারও বেশ ফুলেফেঁপে উঠত। এহেন উদ্যোগই বলে দেয় যে মনেপ্রাণে হিন্দি সিনেইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কতটা যুক্ত ছিলেন অজিত পওয়ার। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে যে বলিউড অন্যতম অভিভাবকহারা হল, তা বলাই বাহুল্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement