শূন্যের গেরো কাটাতে এবার বাবরি মসজিদের নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুন কবীরই ভরসা বামফ্রন্টের। বুধবার রাতে জোট নিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্য়ান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তা প্রকাশ্যে আসতেই লালপার্টিকে একহাত নিলেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। বললেন, "সিপিএমের মেরুদণ্ডই ভেঙে গিয়েছে।"
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। তারপর যত দিন এগিয়েছে ততই কমেছে বামেদের ভোট। বর্তমানে রাজ্যে শূন্য সিপিএম। যদিও ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে লড়ার ডাক দিচ্ছে আলিমুদ্দিন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা খাতা খুলবে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দলের শীর্ষনেতারাই। ওয়াকিবহল মহলের দাবি, দিশাহীন মনোভাবের কারণেই ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে বামেরা। ছাব্বিশেও মাটি শক্ত করা তো দূর-অস্ত, আঁচড় কাটতে পারবে না তাঁরা। এসবের মাঝেই 'সাম্প্রদায়িক' হুমায়ুনের সঙ্গে জোট সংক্রান্ত বৈঠক সারলেন মহম্মদ সেলিম। বুধবার সন্ধ্যায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন সেলিম ও হুমায়ুন। ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএমের সঙ্গে বাবরির নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুনের জোট বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ভোট বৈতরণী পার করতে সাম্প্রদায়িক জনতা উন্নয়ন পার্টির জোট বাধা বামেদের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ঠিক যেমনটা হয়েছিল গত বিধানসভা নির্বাচনে। নওশাদের আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধে কী পরিণতি হয়েছিল তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বুধবার সন্ধ্যায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন সেলিম ও হুমায়ুন। ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএমের সঙ্গে বাবরির নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুনের জোট বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ভোট বৈতরণী পার করতে সাম্প্রদায়িক জনতা উন্নয়ন পার্টির জোট বাধা বামেদের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে জোট হবে কি হবে না, বামেরা আদৌ জোট নিয়ে ভাবছে কি না, তা খোলসা করেননি সেলিম। এদিন বৈঠকের পর তিনি বলেন, "হুমায়ুন একটা নতুন দল খুলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বৈঠকে বসার কথা বলছিল। তাই আজ বসলাম। ওনার যা বক্তব্য তা দলকে জানাব। সিদ্ধান্ত দলের।" তবে হুমায়ুন কোনও রাখঢাক করেননি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বামেদের সঙ্গে জোট বাঁধতে তিনি প্রস্তুত। সেলিমের কাছে তাঁর আর্জি, কোনওভাবেই যেন এক আসনে প্রার্থী না দেওয়া হয়। এদিকে নওশাদ দীর্ঘদিন ধরেই বামেদের সঙ্গে জোটে আগ্রহী, একাধিকবার আলিমুদ্দিনে বৈঠকও করেছেন। তাই নওশাদকেও পাশে চাইছেন হুমায়ুন। এবিষয়ে কথা বলার দায়িত্ব তিনি নাকি ছেড়েছেন সেলিমের কাঁধেই। পাশাপাশি হাত শিবিরকেও দলে টানতে মরিয়া ভরতপুরের বিধায়ক। হুমায়ুন জানিয়েছেন, মিম ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। সবুজ সংকেত দিয়েছে তাঁরা। বাকিরা তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেই ভোটকে পাখির চোখ করে ময়দানে ঝাঁপ দেবেন হুমায়ুন।
