বায়োপিক কিংবা পিরিয়ড ড্রামায় অভিনয় করলে শিল্পীদের বরাবরই তটস্থ থাকতে হয়। কারণ ইতিহাসের পাতা থেকে পর্দায় যখন সেই চরিত্র চিত্রায়নের ভার বর্তায় তখন দর্শক, সিনেসমালোচকদের আতশকাচে থাকে অভিনেতাদের লুক, অভিব্যক্তি থেকে শরীরী ভাষা। সেই অগ্নিপরীক্ষায় উতরাতে পারলে ঝকঝকে মার্কশিট, নইলে বিতর্ক অবধারিত। বছর চারেক আগে 'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' সিনেমার লুক নিয়ে জোর বিতর্কে পড়েছিলেন খিলাড়ি। একে খারাপ পারফরম্যান্স উপরন্তু 'মেকি' লুক, সবমিলিয়ে বক্স অফিসে ভরাডুবি ঘটে। নকল গোঁফ ব্যবহারের জেরেও লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন খিলাড়ি। শেষমেশ এবার সেই বিষয়েই মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)।
"'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' সিনেমার গল্পের প্রয়োজনে এক বিশেষ ধরনের গোঁফের দরকার ছিল, আর ঠিক ওই ধাঁচের গোঁফ ন্যাচারালি আমার মুখে গজায় না! তাই হতে পারে সেই নকল গোঁফটি দেখতে হয়তো খুব একটা ভালো লাগেনি। কিন্তু..."
২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিল পিরিয়ড ড্রামা 'সম্রাট পৃথ্বীরাজ'। তবে মুক্তির পর বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখালেও এযাবৎকাল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে 'টুঁ' শব্দটি করেননি অক্ষয়। অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছিলেন, 'একসঙ্গে একগুচ্ছ সিনেমা করলে পৃথ্বীরাজের চরিত্রের জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে?' খিলাড়ি যে সময় বেঁধে সমান্তরালে একাধিক ছবির কাজ করে নিতে পারেন, সেকথা সেলেবপাড়ার ভালোই জানা। এবার 'ভূত বাংলা'র সুবাদে বক্স অফিসে কপাল খুলতেই চার বছর আগের বিতর্ক নিয়ে কথা বললেন অভিনেতা। নকল গোঁফ নিয়ে 'খিলাড়ি'র মন্তব্য়, "দেখুন, আমি সেসময়ে একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করছিলাম। একেকটার জন্য একেকরকম লুক প্রয়োজন ছিল। এই এখন যেমন আমি দাড়ি রেখেছি, এই দাড়ি গজাতে আমার প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লেগেছে এবং ওই ৬ সপ্তাহ আমি কোনও কাজ করিনি। তাই বিষয়টা এমন নয় যে, আমি সময় দিতে চাই না।" শুধু তাই নয়। অভিনেতার সংযোজন, "'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' সিনেমার গল্পের প্রয়োজনে এক বিশেষ ধরনের গোঁফের দরকার ছিল, আর ঠিক ওই ধাঁচের গোঁফ ন্যাচারালি আমার মুখে গজায় না! তাই হতে পারে সেই নকল গোঁফটি দেখতে হয়তো খুব একটা ভালো লাগেনি। কিন্তু দিনশেষে, এটা তো অভিনয়। মাঝে মাঝে এমনটা করতেই হয়। আর যদি দর্শকদের সেটি ভালো না লেগে থাকে, তবে আমি সত্যিই দুঃখিত।"
'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' ছবিতে অক্ষয় কুমারের নকল গোঁফ নিয়ে বিতর্ক।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালেই 'পৃথ্বীরাজ' ছবির চিত্রনাট্য লিখে ফেলেছিলেন চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী। শোনা যায়, তখন তাঁর পৃথ্বীরাজ হিসেবে পছন্দ ছিল সানি দেওলকে। আর সংযুক্তার ভূমিকায় ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে ভেবেছিলেন পরিচালক। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তারপর বহু বছর ছবির জন্য কোনও প্রযোজক পাননি দ্বিবেদী। শেষে ২০১৮ সালে ছবিটি প্রযোজনা করতে রাজি হয় যশরাজ ফিল্মস। শেষমেশ পৃথ্বীরাজ হিসেবে অভিনয় করতে রাজি হন অক্ষয় কুমার। তবে সেই সিনেমায় অভিনয় করে বেজায় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন খিলাড়ি। প্রশ্ন উঠেছিল, ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুতি এত দুর্বল কেন? কেনই বা নকল গোঁফ ব্যবহার করেছেন অক্ষয়? বক্স অফিসেও মহা ভরাডুবি ঘটে। রিলিজের পর চার বছর কাটলেও সেই বিতর্ক পিছু ছাড়েনি! এবার অবশেষে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নামলেন খোদ খিলাড়ি।
