মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত। চতুর্দিকে শুধুই ধ্বংসলীলার সাক্ষর আর বারুদের ম-ম করা গন্ধ! বাতাসে কান পাতলে শোনা যায় সেদেশের জনগণের হাহাকার। এমন ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই ইরানে স্বমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে একশো বছরেরও বেশি পুরনো এক বিষ্ণু মন্দির। ভারতের অনেকেরই হয়তো সেই মন্দির সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গ ধারণা নেই! কিন্তু অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) সুবাদে এবার ইরানের সেই প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরই চর্চার শিরোনামে।
ঘনিষ্ঠরা অনেকেই বিগ বিকে 'বিবলিওগ্রাফি' বলে সম্বোধন করেন। কারণ সিনেমার ব্যকরণের পাশাপাশি বিবিধ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান অপরিসীম। এবার ইরানে শতোর্ধ্ব প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরের হদিশ দিয়ে সাড়া ফেলে দিলেন অমিতাভ বচ্চন। কারণ ভারত-ইরানের মধ্যে যে এহেন ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে, সেই ধারণা অনেকেরই ছিল না। এবার বিগ বি জানান দিলেন সেই মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে। শুধু তাই নয়, ইরানের ওই বিষ্ণু মন্দিরে উপাসক হিসেবে কারা থাকতেন? সেসম্পর্কেও অবগত করলেন অভিনেতা।
ইরানে কাজার আমলের প্রাচীন বিষ্ণু মন্দির। ছবি- সংগৃহীত
যে বিষ্ণু উপাসনাগার আজও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যা কিনা ভারত-ইরানের অতীত সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সাক্ষী। আর এহেন তথ্য প্রকাশ্যে এনেই নেটভুবনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন অমিতাভ। বিগ বি'র এহেন পোস্টে আবার অনেকেই 'হিন্দু জাগরণ'-এর বার্তা খুঁজে পেয়েছেন।
বিষ্ণু মন্দিরের ঝলক ভাগ করে নিয়ে অমিতাভ জানান, "১৮৯২ সাল নাগাদ 'কাজার' যুগে ইরানের আব্বাস বান্ডার এলাকায় নির্মিত হয়েছিল ওই মন্দির। ভারত থেকে কর্মসূত্রে যে হিন্দু ব্যবসায়ীরা ইরানের ওই এলাকায় গিয়ে থাকতেন, মূলত তাঁদের উপাসনার জন্যেই তৈরি হয়েছিল এই বিষ্ণু মন্দির। ভারত থেকে যাওয়া সেই হিন্দু ব্যবসায়ীরাই ওই মন্দিরের ধর্মীয় উপাসক ছিলেন।" যে বিষ্ণু উপাসনাগার আজও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যা কিনা ভারত-ইরানের অতীত সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সাক্ষী। আর এহেন তথ্য প্রকাশ্যে এনেই নেটভুবনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন অমিতাভ। বিগ বি'র এহেন পোস্টে আবার অনেকেই 'হিন্দু জাগরণ'-এর বার্তা খুঁজে পেয়েছেন। একাংশ বিস্মিত হয়েছেন তাঁর এহেন আধ্যাত্মিক চর্চার জন্যে। কেউ বা ধন্যবাদ জানালেন ইতিহাসের অতলে চাপা পড়ে যাওয়া এই মন্দির সম্পর্কে ভারতীয়দের অবগত করার জন্যে।
