বিশ্বজুড়ে সিনেমা, সংস্কৃতি, ফ্যাশন দুনিয়ার গল্প বলার এক মিলন স্থল কান চলচ্চিত্র উৎসব তা বললে অত্যুক্তি হবে না। পাশাপাশি বিনোদন জগতের নারীদের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিত্বকেও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় কানের কার্পেটে। দেশ বিদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের সমাগমে কানের আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে গ্ল্যামারের দ্যুতি! কানের লাল গালিচা ভারতীয় সেলিব্রিটিদের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে, সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আর ঠিক সেই সময়ই উলটো সুর পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের কণ্ঠে। কান চলচ্চিত্র উৎসবের কঠিন বাস্তবকে সামনে আনলেন পরিচালক।
সম্প্রতি সুচরিতা ত্যাগীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ জানান, কান চলচ্চিত্র উৎসব ভারতের দৃষ্টিকোণে রেড কার্পেটে ফ্যাশন প্রদর্শন! কিন্তু, এটি আসলে বিশ্ব সিনেমা উদযাপনের আঙিনা। অনুরাগের মতে, "ভারতে কান নিয়ে মানুষের আগ্রহ শুধু রেড কার্পেটে হাঁটা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। মানুষ বোঝে না যে রেড কার্পেটের বাইরেও একটা বিশাল চলচ্চিত্র উৎসব রয়েছে যার একটা বিরাট উদ্দেশ্য রয়েছে।" শুধু সমালোচনাই নয়, নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই লাইমলাইট বা সংবাদমাধ্যমের হইচই এড়িয়ে চলেন। ক্যামেরা দেখেও তা একপ্রকার এড়িয়ে যান অনুরাগ কাশ্যপ।
কান কার্পেটে আলিয়া
তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি কি পরোক্ষভাবে সেই সব সেলিব্রিটি বা ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডারদের উদ্দেশ্যেই মন্তব্য করেছেন, যাঁরা মূলত প্রচারের তাগিদে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেন। মন্তব্য বাক্সে যে নামটি উঠে আসে, তিনি আর কেউ নন, আলিয়া ভাট। যদিও কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি তবুও নেটভুবনের অনুমান অনুরাগের মন্তব্য মূলধারার সেলিব্রিটিদের উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
কানের রেড কার্পেট নিয়ে 'বিরক্ত' অনুরাগ
অন্যদিকে, অনেক ভক্ত আবার আলিয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, আলিয়ার উপস্থিতি ছিল একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড পার্টনারশিপের অংশ, শুধুমাত্র লাল গালিচায় হাঁটার জন্য নয়। আবার অনেকের মতে আবার কাশ্যপের সমালোচনা মূলত সেই সকল 'ইনফ্লুয়েন্সার কালচার'-এর বিরুদ্ধে যেখানে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব সিনেমার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সোশাল মিডিয়া প্রচারের জন্য কানের লাল গালিচায় হাঁটার সুযোগ পান।
