মায়ানগরীর সেলেবপাড়ার অন্দরে কখন, কোন সম্পর্কের সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়? বলা মুশকিল! গত মঙ্গলবার থেকে মৌনী রায়ের চার বছরের দাম্পত্য ভাঙার খবরে শোরগোল টিনসেল টাউন থেকে ভক্তমহলে। বৈশাখের কালবেলায় মৌনী রায়ের ডিভোর্সের খবর যেন কালবৈশাখীর মতো আছড়ে পড়ে সিনেদুনিয়ায়। দিন দুয়েক নানা জল্পনা-কল্পনার পর শেষমেশ বৃহস্পতিবার ডিভোর্সের খবরে সিলমোহর দেন মৌনী। সূরজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেও ভবিষ্যতে 'বন্ধুত্ব' বজায় রাখবেন বলেই জানিয়েছিলেন নায়িকা। কিন্তু আটচল্লিশ ঘণ্টা পেরনোর আগেই স্বামীর কাছে ফিরলেন বলিউডের বঙ্গতনয়া!
মৌনীর জনপ্রিয়তাই আসলে দাম্পত্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীরকম? কানাঘুষো, বিয়ের পর থেকেই নাকি স্ত্রী নায়িকার তুমুল খ্যাতিতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিলেন স্বামী সূরজ। তিনি দুবাই ভিত্তিক একজন বিনিয়োগ ব্যাঙ্কার। থাকেনও সেখানেই। আর মৌনীর জনপ্রিয়তা নিয়েই নাকি অশান্তির সূত্রপাত।
তাহলে মান-অভিমানের বরফ কি গলল? এমন কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়। আসলে গত মঙ্গলবার সূরজকে ইনস্টাগ্রামে 'আনফলো' করেন মৌনী রায়। এমনকী বিয়ের সমস্ত ক্যামেরাবন্দি মুহূর্তও সোশাল পাড়া থেকে 'হাইড' করে দিয়েছিলেন নায়িকা। সেখান থেকেই ডিভোর্স গুঞ্জনের সূত্রপাত। যদিও বৃহস্পতিবার বিয়ে ভাঙার খবরে সিলমোহর দিয়ে মৌনী জানান, "আমাদের দীর্ঘ চার বছরের দাম্পত্য সফর শেষ হচ্ছে। তবে আগামীতে আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। এই কঠিন সময়ে যেন আমাদের গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে সম্মান দেওয়া হয়।" কিন্তু শুক্রবার হাত পোহাতেই ফের প্রাক্তন স্বামীর কাছে ফিরতে হল অভিনেত্রীকে! খবর, শনিবার ফের সূরজ নাম্বিয়ারকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করা করেন মৌনী। শুধু তাই নয়, বিয়ের যেসমস্ত ছবি প্রোফাইলে বন্ধ রেখেছিলেন, সেগুলি আবারও ফিরে এসেছে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। কিন্তু সূরজ নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছেন। কীরকম? প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেল, মৌনী তাঁকে ফলো করলেও পালটা তিনি নায়িকা-স্ত্রীকে অনুসরণ করছেন না। এমতাবস্থায় অভিনেত্রীর 'হরিহর আত্মা' বন্ধু দিশা পাটানির কি অবস্থান? তিনিও কি বান্ধবীর দেখাদেখি সূরজকে ফলো করলেন? আজ্ঞে না।
মৌনীকে প্রথমটায় বিয়েই করতে চাননি সূরজ!
শোনা যাচ্ছে, নতুন বছরের শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করেছিল। অন্দরের খবর, মৌনীর স্বামী নাকি প্রতারণা করছেন! বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন সূরজ। শুধু তাই নয়, এমন গুঞ্জনও টিনসেল টাউনের আকাশে-বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে যে, মৌনীর টাকাপয়সা নয়ছয় করেছেন সূরজ! যদিও সূরজ নিজেই দুবাইয়ের ব্যবসায়ী। সেখানেই থাকেন। তাই আর্থিক প্রতারণার বিষয়টি কতটা সত্যি? তা নিয়ে ধন্দ রয়েই যায়। কিন্তু এবার শোনা গেল, মৌনীর জনপ্রিয়তাই আসলে দাম্পত্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীরকম? কানাঘুষো, বিয়ের পর থেকেই নাকি স্ত্রী নায়িকার তুমুল খ্যাতিতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিলেন স্বামী সূরজ। তিনি দুবাই ভিত্তিক একজন বিনিয়োগ ব্যাঙ্কার। থাকেনও সেখানেই। আর মৌনীর জনপ্রিয়তা নিয়েই নাকি অশান্তির সূত্রপাত। বলিপাড়ার অন্দরমহল বলছে, গত ছ'মাস ধরে একছাদের তলাতেও থাকছেন না তাঁরা। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন স্বামী সূরজ?
বলিউডের খ্যাতনামা সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির দাবি, "সূরজ বর্তমানে এমন এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যেটা ১৯৭৩ সালে হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী সিনেমা 'অভিমান' রিলিজের পর জয়া ভাদুড়ির ব্যাপক জনপ্রিয়তায় অমিতাভ বচ্চন অনুভব করেছিলেন। সূত্র মারফৎ খবর, সূরজ বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া সত্ত্বেও মুম্বইতে থাকাকালীন প্রায়শই এমনটা অনুভব করতেন যে, স্ত্রী মৌনীর তুলনায় তাঁকে খুব কম মানুষই চেনেন।"
