দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরছেন অর্জুন চক্রবর্তী। ‘উইন্ডোজ’-এর আসন্ন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এ মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিতে স্বেচ্ছাচারী জমিদার মণীন্দ্রচন্দ্র। মনে ভরপুর ‘বাঙালি বাবু’। রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামের সেই ছেলেটির বাঙালি হয়ে ওঠা সহজ ছিল না। কথায় কথায় স্মৃতির ঝঁপি উপুড় করলেন অভিনেতা।
হঠাৎ এত দিনের বিরতি কেন? বিরতি না কি কাজ না দেওয়া, না পাওয়া? অর্জুনের উত্তর, “নিজের ইচ্ছেতেই বিরতি নিয়েছিলাম। আসলে খুব একঘেয়ে কাজ করে ফেলেছিলাম। মনে হচ্ছিল নতুন কিছু করব। বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছিলাম যা দেখে পরে খুব আক্ষেপ হয়েছিল। কেন এত খারাপ ছবি করলাম! তাই আমি সরে এসেছিলাম। তার পর শিবু-নন্দিতা যখন ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর প্রস্তাব দেয় আমি এক কথায় রাজি হয়ে যাই।”
কাজ ছিল না যখন তখন কাজ চাইতে পেরেছেন? অভিনেতার জবাব, "আমার হাতে কাজ না থাকলেও আমি কখনও মুখ ফুটে কাজ চাইতে পারিনি। জীবনে যা যা কাজ করেছি আমি মনে করি সেটা অনেক। গুলজার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার প্রাপ্তির ঝুলি পূর্ণ।" টলিউড এবং বলিউড দুই জায়গাতেই কাজ করেছেন অর্জুন চক্রবর্তী। কিন্তু তাঁকে সেভাবে ব্যবহার করেনি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কিছুটা আক্ষেপ চাপা দিয়েই বললেন, "আমাকে ডাকা হয়নি। সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছি।"
বিরতি কাটিয়ে চেনা ছন্দে অর্জুন
রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে টলিউডে নিজের জায়গা পাকা করে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল? উত্তরে অর্জুন বললেন, “আমি প্রথম যখন এসেছিলাম সবাই আমাকে ‘মেড়ো’ ‘মেড়ো’ বলে রাগাত। আমি ক্লাস ফোর অবধি বাংলা জানতাম না। তারপর নিজের জেদে বাংলা শিখি। আমার পরিবারের সবাই উচ্চশিক্ষিত। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। আমি পড়াশুনায় সেরকম ভালো ছিলাম না। বাস্কেট বলে আমি রাজস্থানকে রিপ্রেজেন্ট করেছি। খেলাধুলোয় টান ছিল। তাঁরাও প্রথমে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। কিন্তু, আমি বুঝিয়েছিলাম এই বাংলায় সত্যজিৎ রায়, উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আছেন। আমিও সেই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হব। এরপর বাড়ির সবাই আমার অভিনয় দেখে মেনে নিয়েছিল।"
কাজে ফিরে খুশি অর্জুন
টলিউডের অন্দরে ব্যান কালচার এখন পরিচিত শব্দ। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় কী তিনিও এই ব্যান কালচারের শিকার? অভিনেতার কথায়, "আমি রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে। আমি নিজেকে ব্রাত্য করে রেখেছিলাম। শিল্পীর শিল্পস্বত্বাই বড় পরিচয়। আমি চাই নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলায় শিল্পের বিকাশ হবে। শিল্পীর কদর হবে। ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিতে গুণী তারকার সমাহার। আমার চারপাশে এত দক্ষ অভিনেতা কাজ করছেন যেখানে নিজের সেরাটা দিতে সবাই প্রস্তুত। অটোমেটিক্যালি সবাই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছে। তাই আমার অভিনয়টাও বাদ যায় কী করে!"
অভিনয়ে ফিরলেন অর্জুন
এত বছর পেরিয়ে আসার পরেও শুরুর দিনগুলো ভোলেননি তিনি। অর্জুনের সংযোজন, ‘গুলজারের অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকার সময় হঠাৎই অভিনয়ের সুযোগ আসে। আমার অভিনয় দেখে সঞ্জীব কুমার গুলজারকে বলেছিলেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে আমার অভিনয় প্রতিভা নষ্ট না করতে। এরপর একের পর এক ছবি হয়। আমার ঝুলিতে আসে ‘অঙ্কুশ’। যেটা একটি কাল্ট ফিল্ম। আমি এই ছবিতে অভিনয় করেছি। এ বিষয়ে আমার অহংকার নেই। কিন্তু, আমি গর্বিত।’
অর্জুন চক্রবর্তীর জীবনবোধে অহংকারের জায়গা নেই। কিন্তু তিনি যা কাজ করেছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট। আক্ষেপ কিছু থাকলেও তাতে সেরকম পাত্তা দিতে নারাজ। অর্জুন দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, ‘কমল হাসান, মৃণাল সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া চৌধুরি এঁদের সঙ্গে কাজ করেছি। এটাই বা কম পাওয়া নাকি!
