বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর দাবিতে অনড় দেব। মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠক থেকে বেরিয়েই 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে 'ডেডলাইন' বেঁধে দিলেন টলিউড সুপারস্টার।
এদিনের বৈঠকে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি অতীত 'বয়কট সংস্কৃতি'র প্রসঙ্গও উত্থাপন হয়। পঁচিশ সালে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ১৩ জন পরিচালকের মামলা দায়েরের পরই অলিখিতভাবে একাংশের বিরুদ্ধে 'নিষিদ্ধ খাঁড়া' নেমে এসেছিল। সেই তালিকায় খ্যাতনামা পরিচালক-অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য রয়েছেন। গতবছর 'হুলি-গান-ইজম'-এর মিউজিক ভিডিও শুট করাকালীন কলাকুশলীদের অসহযোগিতার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছিলেন অনির্বাণ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে যখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি একছাদের তলায়, তখন এমন আবহে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজ না পাওয়ার 'কষ্টে'র কথা তুলে ধরেন দেব।
"নিজের একটি সিনেমার শুটিং হবে তার জন্য অনির্বাণকে প্রয়োজন। সেই কারণে নিজের কলাকুশলীদের কাজের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে হঠাৎ করে নিজের প্রয়োজনে একজনকে ছবিতে নেওয়ার জন্য প্রেম জেগে উঠল!...."
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টলিউড সুপারস্টার বলেন, "ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সকলকে নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সুরাহা করবেন বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)। যেহেতেু আমরা আর আলাদা করে আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নই, এই গোটা ইন্ডাস্ট্রি একটা ছাদ। তবে একাধিক শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। বুম্বাদা আমাকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিষিদ্ধ শিল্পীদের নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে বিষয়টির মীমাংসা করবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।" দেবের সংযোজন, "কাজ না করতে পারাও একটা কষ্ট। আমার মনে হয়, যাদের কাজ নেই, এই কষ্টটা তাঁরাই বুঝতে পারবেন একমাত্র। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে কীভাবে ফেরানো হবে, সেটা বুম্বাদাই জানেন। তবে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রত্যেকের উপর থেকে ‘ব্যান’ উঠে যাবে।" দেব বৈঠকে একথা জানানোর পরই ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মন্তব্য, "আরেকটি বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কিছু কিছু শিল্পী কাজ করতে পারছেন না। সেই বিষয়ে আমাদের একজন অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাই, আমাদের কলাকুশলীরা শেষ একবছর তিন মাস ধরে নিজেদের অধিকার রক্ষার্থে লড়ে যাচ্ছে। তাঁর উচিত ছিল, একবছর আগে এসে এই বিষয়টি জানা।"
স্ক্রিনিং কমিটির তরজার পর প্রসেনজিতের বাড়িতে দেব, ছবি- ফেসবুক
মঙ্গলবার মিটিং থেকে ফিরেই সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক দেব! অগ্রজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর জন্য আগামী ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিলেন টলিউড সুপারস্টার। পোস্টে উল্লেখ, "আমরা সকলে মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছি।"
শুধু তাই নয়, টলিউড সুপারস্টারের নামোল্লেখ না করেই ফেডারেশন সভাপতির সংযোজন, "নিজের একটি সিনেমার শুটিং হবে তার জন্য অনির্বাণকে প্রয়োজন। সেই কারণে নিজের কলাকুশলীদের কাজের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে হঠাৎ করে নিজের প্রয়োজনে একজনকে ছবিতে নেওয়ার জন্য প্রেম জেগে উঠল! তার উচিত নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কলাকুশলীদের কথা ভাবা।" অতীতে নিষেধাজ্ঞার মাঝেই অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে 'রঘু ডাকাত' কাজ করেছিলেন দেব। যেহেতু মামলা দায়েরের আগে থেকেই এই সিনেমার জন্য দেবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন অভিনেতা-পরিচালক, তাই এক্ষেত্রে তাঁকে অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়নি। তবে মঙ্গলবার সিনেপাড়ার বৈঠকে উপস্থিত না থেকেও চর্চার শিরোনামে উঠে এলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য! আর সেখান থেকে ফিরেই সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক দেব। অগ্রজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর জন্য আগামী ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিলেন টলিউড সুপারস্টার। পোস্টে উল্লেখ, "আমরা সকলে মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছি।"
গত জানুয়ারি মাসে ইম্পার দপ্তরে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে দেব-প্রসেনজিতের ভুল বোঝাবুঝির খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। কানাঘুষো, ছাব্বিশ সালের বাংলা সিনে-ক্যালেন্ডার নির্ধারণের সময়ে অনুজ দেবের কিছু কথায় খানিক অস্বস্তিতেই পড়েছিলেন টলিউডের অন্যতম ‘অভিভাবক’ বুম্বা। যা কিনা সিনেইন্ডাস্ট্রির ‘টক অফ দ্য টেবল’ হয়ে উঠেছিল। যদিও অগ্রজ তারকার বাড়িতে গিয়ে দেখা করে সেই মান-অভিমান মিটিয়ে নেন দেব। এবার রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে একজোট হওয়া পরিবারে ফের মাথা চাড়া দিল বিতর্ক!
