বিশ্বব্যাপী ১১০০ কোটির ব্যবসা করেছে 'ধুরন্ধর'। গত ৫ ডিসেম্বর মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে বিজয়রথ ছুটিয়ে খান-কাপুর সাম্রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন রণবীর সিং। তবে দেশে তথা গোটা বিশ্বে এই ছবি ঘিরে তুমুল উন্মাদনা দেখা দিলেও 'পাকবিরোধী' প্লটের জেরেই এই ছবি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হয়েছিল। আর সেই প্রেক্ষিতেই বিদেশের মাটিতে চুটিয়ে ব্যবসা করলেও শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে প্রায় ৯০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হয় আদিত্য ধর পরিচালিত ছবিকে। তবে এবার নেটফ্লিক্সের হাত ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে মুক্তির আলো দেখল 'ধুরন্ধর'।
৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে 'ধুরন্ধর'। তবে বড়পর্দায় যে ছবি দেখে দর্শকমহলের একাংশ শিউড়ে উঠেছিল কিংবা হাততালি দিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে ছিল, নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত ভার্সনে সেই সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন না দর্শক। খবর, বেশ কিছু 'আপত্তিকর' সংলাপ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এমনকী সাড়ে তিন ঘণ্টার সিনেমার দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ৯ মিনিট। আর তাতেই ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন দর্শকমহলের একাংশ। তবে শোনা যাচ্ছে, সিনেমার দৈর্ঘ্যে কাঁচি চালালেও ডাকসাইটে অঙ্কের বিনিময়ে 'ধুরন্ধর'-এর স্বত্ত্ব কিনেছে নেটফ্লিক্স। খবর, 'ধুরন্ধর' এবং 'ধুরন্ধর ২' দুই সিনেমার ক্ষেত্রেই ৬৫ কোটি টাকা গ্যাটের কড়ি খরচ করতে হয়ে সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে মোট ১৩০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা।
'ধুরন্ধর' ছবিতে অক্ষয় খান্না, রণবীর সিং, ছবি- সোশাল মিডিয়া
ছবিতে পাকিস্তানের প্রাচীন শহর লিয়ারির গ্যাংস্টারদের বাড়বাড়ন্ত এবং এক ভারতীয় গুপ্তচরের সেই গোষ্ঠীগুলিকে নিকেশ করার কাহিনি তুলে ধরেছেন পরিচালক আদিত্য ধর। ‘হামজা আলি’র (রণবীর সিং) সেই মিশন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়োচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তান বিরোধী প্রেক্ষাপট থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশ এই সিনেমা রিলিজ করতে রাজি হয়নি। আর সেই প্রেক্ষিতেই একাধিক দেশে মুক্তির ছাড়পত্র পায়নি ‘ধুরন্ধুর’। বাহারিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলি পাকিস্তান বিরোধী বার্তা দেওয়ার জন্য ‘ধুরন্ধর’কে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সিনেমা মুক্তির প্রাক্কালে ট্রেলারে ‘লিয়ারি’র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দৃশ্য দেখেও আপত্তি তুলেছিল পাকিস্তানের একাংশ। আবার বালোচদের সঙ্গে কুমিরের তুলনা টানায় ‘ভারতবন্ধু’ বালোচিস্তান থেকেও ধেয়ে এসেছিল কটাক্ষ।
এই অবশ্য প্রথম নয়। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এহেন গেরোয় পড়তে হয়েছে ‘স্কাই ফোর্স’, ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’, ‘আর্টিকেল ৩৭০’, ‘টাইগার ৩’, এবং ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এর মতো ছবিগুলিকেও। এমনকী হৃতিক রোশন এবং দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘ফাইটার’কেও এহেন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় সেখানে। পরবর্তীতে কিছু সংলাপ, দৃশ্য ছেঁটে নতুন সংস্করণ মুক্তি পায় মধ্যপ্রাচ্যে। এবার আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধুর’-এর ক্ষেত্রেও নেটফ্লিক্সে সেই পথ অনুসরণ করা হল।
