shono
Advertisement
Hiya-Ritwik

হিয়া ও ঋত্বিকের কাছে ভালোবাসার মানে কী? 'মন মানে না' মুক্তির আগে আড্ডায় নতুন জুটি

Mon Mane Na: জুটির সমীকরণের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আশা করছি দর্শক দু’জনকে অনেক ভালোবাসবে: ঋত্বিক
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 05:57 PM Jan 30, 2026Updated: 06:23 PM Jan 30, 2026

বন্ধু হতে চেষ্টা করতে হয়নি ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁদের কাছে ভালোবাসার মানে কী? 'মন মানে না' মুক্তির আগে শম্পালী মৌলিকের সঙ্গে কথোপকথোনে নতুন জুটি।

Advertisement

 

বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে কলকাতায় কাটালে। সরস্বতী পুজোয় বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে কেমন সাড়া পেলে আপকামিং ছবি ‘মন মানে না’ নিয়ে?

... ঋত্বিক : ভালো। সরস্বতী পুজোয় প্রধানত স্কুলেই ঘুরেছি আমরা। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, শুধু টিচার নয়, বাচ্চাদের মা-বাবাদের থেকেও ভালো সাড়া পেয়েছি। এটা শুধু কলেজের ছেলেমেয়েদের গল্প নয়। পুরো পরিবারের দেখার মতো গল্প। সব বয়সের মানুষের থেকেই আমরা সাড়া পাচ্ছি। প্রচারে কলেজও গিয়েছি আমরা, সেখানেও দারুণ প্রতিক্রিয়া।

ঋত্বিকের সঙ্গে হিয়ার কেমিস্ট্রি তো দারুণ।

... হিয়া : আমাদের আসলে খুব ভালো বন্ধুত্ব। প্রথম দেখায় একটা শুট করেছিলাম আমরা। সেই দিন থেকে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব হয়ে গেছে আমাদের। বন্ধু হতে খুব চেষ্টা করতে হয়নি আমাদের। ওকে দেখেই আমার মনে হয়েছিল যে অনেক দিনের চেনা। শুট করে করে আরও ভালো হয়েছে। আমরা অন স্ক্রিন খুব ভালো যখন, সেটা পরস্পরের সঙ্গে কমফর্টেবল বলেই হয়েছে। সব কিছু শেয়ার করতে পারি আমরা। তাই অন স্ক্রিন কেমিস্ট্রি যেমন আছে, অফ স্ক্রিন আমরা খুব ভালো বন্ধু।

সৌম্যকে কেমন লাগল হিয়া?

...হিয়া : সৌম্য আর আমার মধ্যে খুব ঝগড়া চলে। অনসেট তাই হয়েছে। তবে ওর সঙ্গে আমার সুন্দর বন্ড তৈরি হয়ে গেছে। ঋত্বিক আর আমি যদি টম অ্যান্ড জেরি হই, সৌম্য আর আমি প্রবল ঝগড়া করি। ওটাই আমাদের কমিউনিকেশন। সারাক্ষণ এটাই চলে (হাসি)।

ঋত্বিক বলিউডে এখন উজ্জ্বল মুখ। সেখানে বাংলা ছবি করতে রাজি হলে কেন? কী ভেবে পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়কে হ্যাঁ বলা? 

ঋত্বিক : বড় হয়েছি বাংলা ছবি দেখে। তার সঙ্গে হিন্দি-ইংরেজি ছবিও দেখেছি। অ্যাক্টিং স্কুলে পড়তে পড়তে ওয়ার্ল্ড সিনেমা দেখা শুরু করি। বড় হতে হতে বুঝলাম, আমার যে সিনেমা দেখতে বা গল্প শুনতে ভালো লাগে তার কোনও ল্যাঙ্গোয়েজ ব্যারিয়ার হয় না। বেঙ্গালুরু, মাইসোরে বড় হয়েছি, মুম্বইয়ে থাকি– বিভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত আমি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাষার সিনেমার সঙ্গে যোগ আমার দর্শক হিসেবে। তাহলে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ করব কেন। যদি কলকাতায় বড় হতাম, তাহলে হয়তো অভিনয় শুরু হত কলকাতায়। সেদিন সৌমিক সেনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। এখন তো রিজিওনাল সিনেমা লোকে দেখছে, যেমন মারাঠি, মালয়ালি, তেলুগু, গুজরাতি, তা হলে বাংলা ছবি দেখবে না কেন? সেটার জন্য দূর থেকে বসে কমপ্লেন না করে নিজেরা মাঠে না নামলে, কী করে হবে? এটা অন্যতম কারণ বাংলা ছবি করার। এই ছবির চিত্রনাট্য ভালো। আর আমার মনে হয় বাঙালিরা ভালো ছবি বানাতে পারে। রাহুলদার কাছে এক্কেবারে কমার্শিয়াল পটবয়লার স্ক্রিপ্ট ছিল, যেটা সবার ভালো লাগবে। মুক্তি ১৩ ফেব্রুয়ারি।

নতুন জুটি ক্লিক করে যাওয়ার বিরাট সম্ভাবনা থাকে প্রথম ছবিতে। যা আমরা বহুবার দেখেছি বাংলা-হিন্দি ছবিতে। সাম্প্রতিক উদাহরণ ‘সাইয়ারা’।

... ঋত্বিক : হ্যাঁ, জুটির সমীকরণের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আশা করছি দর্শক দু’জনকে অনেক ভালোবাসবে। ছবিটাও ভালোবাসবে। লাভ স্টোরির মেন এসেন্স জুটির কেমিস্ট্রির ওপর। মিউজিক, কেমিস্ট্রি, ড্রামার ওপর অনেকটা নির্ভর করে ভালো কমার্শিয়াল ছবি। একই সঙ্গে বলব পুরো টিম মিলেই জুটির সাফল্য। আর আমাদের খুব ভালো বন্ধুত্ব, স্ক্রিনে দর্শক ওটা পেলে খুব উপভোগ করবে।

 

হিয়া ও ঋত্বিক। ছবি: হিয়ার ইনস্টাগ্রাম।

‘মন মানে না’ আদ্যন্ত প্রেমের ছবি। প্রেম কী অর্থ বহন করে?
... হিয়া : প্রেম বা ভালোবাসা মানে আমার কাছে সেফ স্পেস। একটা জায়গা যেখানে গিয়ে সব বলতে ইচ্ছে করে, আর এটাও জানি যা বলব, ওই মানুষটা ব্যাপারটা ধরতে পারবে। আমি যদি গা ফেলে দিই তার ওপর, সে আমাকে ঠিক ধরে নেবে। সে সারাদিন কাজের পর ফিরে তার কাছে গিয়ে যদি সব বলি, আমি জানি সে আমার বিরুদ্ধে ওই কথাগুলো ব্যবহার করবে না। যেখানে, আমি যেমন ঠিক তেমন থাকতে পারি, সেটাই আমার কাছে ভালোবাসা।

ধরে রাখার মানুষ আছে কি?
...হিয়া : হ্যাঁ, একদমই নেই! যেদিন হবে নিশ্চয়ই সবাই জানবে (হাসি)। আমার মনে হয় এখন আমি খুবই ছোট। দেরি আছে তেমন মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য।

এখনকার দিনের ছেলেমেয়েদের কাছে প্রেমের আবেগ কি পাল্টে গেছে? কী মনে হয়?

... ঋত্বিক : না, তা মনে হয় না। আমিও এই জেনারেশনের। হিয়ার মতো জেনজি না হলেও, আমি তো মিলেনিয়াল। কিন্তু আমি আর হিয়া নাইনট্টিজ বা টু থাউজেন্ডের ছবি দেখে, গান শুনে বড় হয়েছি, আমাদের সবার কাছে ভালোবাসার অর্থ একই রয়েছে। আবেগ একই আছে, জীবনের কমিউনিকেশনটা অনেক দ্রুত হয়ে গেছে। শুধু যোগাযোগের চান্স আর চয়েস একটু বেশি আছে। আর সময়টা অনেক দ্রুত চলছে। বাকি একই।

ভালোবাসা কী মানে রাখে?

...ঋত্বিক : অনেক ছোটবেলা থেকে আলাদা আলাদা শহরে থেকেছি। কোনও একটা শহর থেকে নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারিনি। আমার মধ্যে সবসময় চলতে থাকে যে, বাড়ি যাব। সেটা কোনও অ্যাপার্টমেন্ট বা ঘরের ওপর নয়, বরং সেই মানুষগুলোর কাছে ফেরার অনুভব। বাড়ির শব্দ, গন্ধ, আওয়াজটাই বাড়ি। এই অনুভব যখন কোনও একটা মানুষের কাছ থেকে পাই, সে আমার পার্টনার হতে পারে, আমার জন্য সেটাই ভালোবাসা। বাড়ি ফেরার টানই আমার কাছে ভালোবাসা।

বলিউডে কাজ করো বলে এখানে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট পেলে?

...ঋত্বিক : না না (জোরে হাসি)। ‘খাকি দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এর সময় থেকে ‘মন মানে না’, যেরকম ভালোবাসা কলকাতা থেকে পেয়েছি, বা বাইরে থেকেও, ভাবা যায় না! আমি কৃতজ্ঞ। কোনও স্পেশাল ট্রিটমেন্ট আমি চাইওনি। এত ভালেবাসা পেয়েছি, আর কী।

হিয়া, ঋত্বিকের অভিনয় সম্পর্কে কী বলবে? আর সৌম্য?

... হিয়া : ঋত্বিক ম্যাজিক করতে পারে। আর সৌম্যও খুব অথেনটিক।

শাশ্বত-মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা তুমি। স্টার কিড হওয়ার চাপ তো আছেই। তুলনা আসবেই।

... হিয়া : প্রথম সেটে যাওয়ার সময় তুলনা নিয়ে চাপ ছিল। যদি বারবার ক্যালকুলেট করতে থাকি যে এতটা ভালো পারফরম্যান্স করতেই হবে, তা হলে অভিনয়ের থেকে সততা বেরিয়ে যেত। খুব ক্যালকুলেটিভ হয়ে যেত বিষয়টা। সেটে সবাই আমাকে খুব কমফর্টেবল ফিল করিয়েছিল। যে আমি হিয়া, এইটুকুই জানি, সেটুকু হান্ড্রেড পার্সেন্ট দিতে পারব। কি আরেকটু বেশি। বেশি ভাবতে থাকলে হত না। আর বাবা-মা দুজনেই আমাকে বুঝিয়েছে, যা আমার করার ছিল, করে ফেলেছি এখন আর ভেবে লাভ নেই (হাসি)।

বাবা আর কী বলছেন?
... হিয়া : বাবা বেশি বলে না। নিজের মতো করে এগোতে বলেছেন। তবে গড়বড় করলে পাশে আছেন সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তোমরা দু’জনে কতটা আশাবাদী?
... হিয়া : খুবই। আমরা আমাদের কাজ করেছি (হাসি)।
... ঋত্বিক : বাকিটা দর্শক বলবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement