'কোহিনুর' হিরে, ভারতের এক ইতিহাস বহন করে। যা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে শোভা বাড়াচ্ছে বছরের পর বছর। বারবার তা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। যা নিয়ে কম তোরজোড় হয়নি। এই নিয়ে বছরের পর বছর বাগবিতণ্ডা চলছেই। আর তাতে এবার নবতম সংযোজন হয়েছে সাম্প্রতিককালে হলিউড অভিনেত্রীর গলার হার। যা মুঘলদের সম্পত্তি ছিল একসময়। ঠিক কী ঘটেছে?
হলিউডের অভিনেত্রী মার্গট রবি লস অ্যাঞ্জেলসে তাঁর আসন্ন ছবি 'ওয়াদারিং হাইটস'-এর প্রিমিয়ারে এসেছিলেন নজর কাড়া সাজে। অফ শোল্ডার পোশাক, মানানসই হেয়ারস্টাইল ও মেকআপে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তবে এসবের মাঝেও যা সবথেকে বেশি নজর কাড়ল তা হল তাঁর গলার হার। সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ছবি। আর তা দেখে ভারতের নাগরিকরা রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কারণ অভিনেত্রীর গলার ওই হারটি প্রধানত মুঘল সাম্রাজ্যের সম্পত্তি। যা পরিচিত 'তাজ মহল নেকলেস' নামেও। যা মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর স্ত্রী তথা বেগম নূর জাহানকে উপহার দিয়েছিলেন। ১৬০০ শতকে এই উপহার তিনি দেন তাঁর স্ত্রীকে। এমনকী ওই হারের হিরে ও রুবি খচিত লকেটে পারসি ভাষায় খোদাই করা রয়েছে নূর জাহানের নাম। উল্লিখিত রয়েছে সময়কালও। এবার বছর পঁয়ত্রিশের অভিনেত্রী মার্গট সেই হার পরে এসে তাঁর অগ্রজ অভিনেতী এলিজাবেথ টেলরকে শ্রদ্ধা জানান।
অভিনেত্রী বলেন, 'এই গয়না পরার জন্য এর থেকে উপযুক্ত সন্ধ্যা বোধহয় আর একটিও হবে না।' সঙ্গে এর ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, ওই হার একসময়ে অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের ছিল। পরে তা তিনি পেয়েছেন। আর তার পরই নেটপাড়া উঠে পড়ে লাগে মার্গটকে শিক্ষা দিতে। একইসঙ্গে এর সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্যও নেটপাড়ায় উদ্যোগী হন ভারতীয়রা। সবাই অভিনেত্রীকে বলেন, 'এর সঠিক ইতিহাস আপনি জানেনই না। এটি ভারতের সম্পদ। এটি তাজমহল নেকলেস। আপনি এই আসল সত্যিটা বলেননি। ভারতের সম্পদ ভারতে ফেরত পাঠান। লুটের মাল ফেরত দিন। মার্গটের দিকে তীব্র কটাক্ষ ধেয়ে আসে আচমকাই। এই নিয়ে একাধিক ভারতীয়র কটাক্ষের শিকার হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য নূর জাহানের এই বিশেষ লকেটযুক্ত হার যদিও পরবর্তীকালে তুলে দেওয়া হয়েছিল সেই সময়ের মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তরসূরী শাহজাহানের হাতে। তিনি আবার সেই বিশেষ হার উপহার দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলকে। আর সেখান থেকেই এর নাম হয় 'তাজমহল নেকলেস'। যা ১৭৩৯ সালে নাদির শাহের ভারত আক্রমণ কালে হারায় মুঘলরা। সেখান থেকেই হাতবদল হয়ে তা পৌঁছয় মার্কিন মুলুকে। সেখান থেকেই পরবর্তীকালে এই হার ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে কেনেন অভিনেতা রিচার্ড বার্টন। আর তা তিনি উপহার দেন এলিজাবেথ টেলরের ৪০তম জন্মদিনে। বলে রাখা জরুরি, ২০১১ সালে এলিজাবেথ টেলরের প্রয়াণের পর তা নিলামে উঠেছিল প্রায় ৭৫ কোটি টাকায়।
