বদলের বঙ্গে রাজ্য-রাজনীতি তরজা একবারে তুঙ্গে। বিশেষ করে টলিপাড়া তো একেবারে সরগরম। পূর্বতন সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলী থেকে টেকনিশিয়ান, রূপটানশিল্পী সহ আরও অনেকেই। সরকার পরবর্তনের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির রাজনৈতিক সুরেও যে পালাবদল হয়েছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। একসময় যাঁরা তৃণমূলের পক্ষে প্রচার করেছেন বর্তমানে তাঁদের মুখেই শোনা গিয়েছে 'সুর বদল'। বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই ঘাসফুল জমানার অতীত রীতিমতো ফুঁড়ে বের করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় 'দলবদলু' কটাক্ষের বাণে বিদ্ধ টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)। সম্প্রতি সিনেপাড়ার এক জরুরি বৈঠকে রুদ্রনীলের পাশে বসে পরমের সাফাই, সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পরিস্থিতির সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবার অভিনেতা জীতুর (Jeetu Kamal) নিশানায় পরমব্রত? নাম না করে অভিনেতা-প্রযোজককে খোঁচা ছোট পর্দার আর্য সিংহ রায়ের?
সদ্যই শেষ হয়েছে 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এর শেষ পর্বের শুটিং। ধারাবাহিকের শেষে দেখানো হয়েছে আর্য-অপর্ণার কোলে তাঁদের ছোট্ট সোনা। সেই খুদেকে সঙ্গে নিয়েই বেশ কয়েকটি আদুরে ছবি শেয়ার করেছেন জীতু। তবে নজর কেড়েছে পোস্টের ক্যাপশন। যেখানে লেখা 'সদ্যোজাত' তারপর একটি দাঁতের ছবির সঙ্গে 'এ' লিখে আরেকটি দাঁত। বিষয়টি যদি বুদ্ধিদীপ্ততার সঙ্গে সাজানো হয় তাহলে কিন্তু, পরমব্রতর বলা সেই 'দাঁতে দাঁত চেপে' বক্তব্যকেই জীতু ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় পরিবেশন করেছেন তা বলাই বাহুল্য।
আরও একধাপ এগিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে জীতু লেখেন, 'আমার তো নিজের দাঁতগুলোই ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়ে দিলাম। যাক, শিল্পী মানুষ হতেই পারে।' নেটভুবনের দাবি, অভিনেতা তাঁর চেনা ছন্দেই পরমব্রতর 'ভোলবদল'-এর নীরব প্রতিবাদে সামিল। কোন প্রসঙ্গে পরমব্রত উপরিউক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন? পঁচিশ সালে ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে থেকেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বিতর্কের আগুন যখন প্রায় নিভু নিভু, সেসময়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে দেখা মেলে অভিনেতা-পরিচালকের।
সেসময়েই এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আর কোনওরকম আইনি জটিলতায় যেতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে বিজেপির ডাকা ইন্ডাস্ট্রির বৈঠকে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানায় কোন চাপে পড়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল সেই কারণ ব্যাখ্যা করে পরমব্রত বলেন, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই।" এরপরই পাল্টিবাজ’, ‘সুবিধেবাদী’ থেকে ‘দলবদলু’ আক্রমণ শুরু হয়েছে নেটভুবনে।
