রাজকুমার হিরানি ও আমির খানের যুগলবন্দি ফের পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শক। সেই উত্তেজনার পারদ বেশ খানিকটা বেড়েছিল গত বছর মে মাস নাগাদ প্রথম প্রকাশ্যে আসে আমির ও রাজকুমারের আগামী ছবির খবর। জানা গিয়েছিল, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পথিকৃৎ ‘দাদাসাহেব ফালকে’- এর বায়োপিক নির্মাণ করছেন তাঁরা। যা শোনার পর থেকেই বলিউডের এই হিট পরিচালক-অভিনেতা জুটিকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন সকলে। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুব তাড়াতড়িই শুরু হবে সেই ছবির শুটিং। কিন্তু তার আগে পাল্টাচ্ছে এই বায়োপিকের চিত্রনাট্য। নেপথ্যে কোন কারণ?
শোনা যাচ্ছে, দাদাসাহেব ফালকের মতো ব্যক্তিত্বের বায়োপিক নির্মাণের আগে চিত্রনাট্যে নাকি কোনওরকম আপস করতে চাইছেন না নির্মাতারা। এর আগে বিগত চার বছর ধরে চলেছে বায়োপিকের চিত্রনাট্য নির্মাণের কাজ। আর সেই দায়িত্ব সামলেছেন অভিজাত যোশি, হিন্দুকুশ ভরদ্বাজ, আবিষ্কার ভরদ্বাজ-প্রমুখ। ভারতীয় সিনে জগতের পথিকৃতের বায়োপিকে যাতে কোনওরকম ত্রুটি না থাকে সেই কারণেই এতটা সময় নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আমির ও রাজকুমার দু'জনেই নাকি এই বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছেন। এই বায়োপিকে যেমন ইতিহাসকে কোনভাবেই বিকৃতি করা যাবে না, তেমনই ছবির স্বার্থে প্রয়োজনীয় হাস্যরসও তাতে মজুত রাখতে হবে। আবার ছবিতে যে সময়কাল তুলে ধরা হবে সেদিকেও বিশেষভাবে নজর রাখবেন নির্মাতারা, কোনওটাই যাতে অতিরঞ্জিত না হয়ে যায়। সবদিকে নজর রেখেই তাই পুনরায় লেখা হচ্ছে ছবির নতুন চিত্রনাট্য। যা ফেব্রুয়ারি নাগাদ শেষ হবে। আর তা শেষ হওয়ার পরেই মার্চ মাস থেকে শুরু হবে রাজকুমার ও আমিরের বহু প্রতীক্ষিত দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিকের শুটিং।
ঢুন্ডিরাজ গোবিন্দ ফালকে, যিনি দাদাসাহেব ফালকে নামেই সকলের কাছে পরিচিত। ভারতীয় ছবির এই পথিকৃৎ এক আলদা মাত্রা যোগ করেছিলেন এদেশের বিনোদুনিয়ায়। তাঁর হাত ধরেই নতুন সকাল দেখেছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ। ১৯১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল দাদাসাহেব ফালকে পরিচালিত ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র’। যা প্রথম ভারতীয় পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হল, ‘লঙ্কা কাণ্ড’, ‘শ্রীকৃষ্ণজন্ম’ ও ‘কালীয় মর্দন’। ১৯৬৯ সালে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তৎকালীন ভারত সরকারের উদ্যোগে শুরু হয় ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার প্রদান। যা এদেশের চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান।
