অগ্নিসাক্ষী করে সাত পাকের বন্ধনই হোক বা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে কুবুল হ্যায়, ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা পড়ে দুটি মন। আমৃত্যু পরস্পরেরসুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার অঙ্গীকার নিয়েই শুরু হয় নতুন জীবনের পথ চলা। সব বাধা পেরিয়ে এক অপরের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখাতেই তো পূর্ণতা পায় তো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের নিবিড় প্রেম। গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকারাও কিন্তু, এর ব্যতিক্রম নয়। প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের (Irrfan Khan) পুত্র প্রকাশ্যে আনলেন সেইরকমই এক বিশেষ মুহূর্ত। শরীরে ক্যানসার থাবা বসানোর পরও স্ত্রী সুতপার প্রতি যত্নে কোনও সমঝোতা করতে নারাজ ইরফান।
পর্দায় যেমন চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে বদ্ধপরিকর ছিলেন, বাস্তবেও ফ্যামিলি ম্যান হিসেবে নিজের সেরাটুকু দেওয়ার প্রচেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখতেন না। সত্যিই ইরফান ছিলেন প্রকৃত 'দ্য ওয়ারিওর' বা প্রকৃত যোদ্ধা। প্রয়াত অভিনেতার ছেলে বাবিল খান প্রায়ই বাবার স্মৃতি সোশাল সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এমন একটি আবেগঘন মুহূর্ত শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার সময়ও স্ত্রী সুতপার পায়ের পরিচর্চা করছেন।
অদেখা ছবি পোস্ট করে বাবিল জানিয়েছেন, 'বাবার ক্যানসারের সবচেয়ে কষ্টকর সময়ে সারাক্ষণ ওঁর যত্ন নিতে গিয়ে মায়ের পায়ে কড়া পড়ে গিয়েছিল। তখন বাবা নিজের মাথায় ফোন বেঁধে আলো জ্বালিয়ে পায়ের চিকিৎসা করতেন।
ভালোবাসার এই নজির সোশাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ইরফানের অনুরাগীরা। বাবা-মায়ের অপ্রকাশিত কিছু ছবি শেয়ার করে বাবিল জানান, বাবা যখন ক্যানসারে আক্রান্ত তখন মা তাঁর দেখভাল করতেন। চিকিৎসার জন্য সর্বত্র ছোটাছুটি করতেন। তখনই অতিরিক্ত হাঁটাচলার কারণে পায়ের নীচে কড়া পড়ে গিয়েছিল। প্রিয়তমার এই কষ্টের কাছে ইরফানের ক্যানসারের যন্ত্রণা যেন অত্যন্ত নগণ্য। তাই মাথায় মোবাইল বেঁধে সেই আলোয় সুতপার পায়ের চর্চায় ব্যস্ত ছিলেন ইরফান।
ছবি পোস্টের ক্যাপশনে বাবিল লিখেছেন, 'বাবার ক্যানসারের সবচেয়ে কষ্টকর সময়ে মা সারাক্ষণ ওঁর যত্ন নিতে গিয়ে পায়ে কড়া পড়ে গিয়েছিল। তখন বাবা নিজের মাথায় ফোন বেঁধে আলো জ্বালিয়ে পায়ের চিকিৎসা করতেন। এভাবেই সম্পর্কের জটিল আস্তরণ সরিয়ে ভালোবাসার ছোঁয়ায় পরস্পরকে বেঁধে রাখতেন।' এই ছবি সুতপার নজরে আসতেই ছেলের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে লিখেছেন, 'আমার আদরের বাবিল।' উল্লেখ্য, ইরফান খান ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। দুবছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০২০র ২৯ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি দেন ইরফান।
