চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চোদ্দ ঘণ্টা শুটিং। হাতে রইল মোটে দশ ঘণ্টা। বাকি সময়ে পড়াশোনা, খাওয়া আর ঘুমের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২ ঘণ্টা! তাতেই সিবিএসসি বোর্ডের দশম শ্রেণীর রেজাল্টে বাজিমাত করল টেলিপর্দার প্রিয় 'কুসুম'। দিনভর শুটিংয়ের চাপ, ক্লান্তি সরিয়ে রাতজেগে পড়াশোনা করা চারটিখানি কথা নয়! লোকে বলত, 'এই মেয়ে ডাহা ফেল করবে!' কিন্তু শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় ৭৯ শতাংশ নম্বর তুললেন তনিষ্কা তিওয়ারি (Taniska Tiwari)।
"অনেক অক্লান্ত কঠোর পরিশ্রম, ১৪ ঘন্টা শুটিং, রাত জেগে পড়ে মাত্র ২ ঘন্টা বিশ্রাম, দিনের পর দিন তোমার কঠিন পরিশ্রম চোখের সামনে দেখেছি। আর তোমার শুটিংয়ের সবাই জানে শুটের ফাঁকে কীভাবে সময় বের করে তুমি পড়তে। যারা বলত, সিরিয়াল করে বোর্ডের পরীক্ষায় পারবে কী করে? ডাহা ফেল করবে মেয়ে, হাসি মুখে কাজ দিয়ে তাদেরও উওর দিয়ে দিলে তুমি।..."
তনিষ্কা বর্তমানে টেলিদর্শকমহলের প্রিয় পাত্রী। সহজ-সরল, দুষ্টু-মিষ্টি 'কুসুম'কে দেখতে রোজ সন্ধেয় ছোটপর্দায় চোখ রাখেন ভক্তরা। কিন্তু পর্দার কুসুম খানিক পরিণত হলেও বাস্তবে কিন্তু সবে দশম শ্রেণীর গণ্ডি পেরল সে। সদ্যই সিবিএসসি'র ক্লাস টেনের রেজাল্ট বেরিয়েছে। ১৪ ঘণ্টা শুটিং সামলে বইয়ের পাতায় চোখ রাখতে হত তনিষ্কাকে। পড়ার সময় বলতে রাতে মাত্র ২ ঘণ্টা ঘুমনোর আগপর্যন্ত। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, এমনও দিন গিয়েছে যখন পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে সোজা ধারাবাহিকের সেটে ছুটতে হত। আর তাতেই কিনা উননব্বই শতাংশ নম্বর হাঁকালেন তনিষ্কা! শুধু তাই নয়, দু'-দুটো বিষয়ে লেটার মার্কসও। অভিনেত্রীর এহেন সাফল্যে আপ্লুত পরিবারও। মেয়ের এহেন 'ঝকঝকে মার্কশিট' নিয়ে কী বলছে তনিষ্কার পরিবার?
'কুসুম' সিরিয়ালে তনিষ্কা।
তনিষ্কার পরিবারের মন্তব্য, "অনেক অক্লান্ত কঠোর পরিশ্রম, ১৪ ঘন্টা শুটিং, রাত জেগে পড়ে মাত্র ২ ঘন্টা বিশ্রাম, দিনের পর দিন তোমার কঠিন পরিশ্রম চোখের সামনে দেখেছি। আর তোমার শুটিংয়ের সবাই জানে শুটের ফাঁকে কীভাবে সময় বের করে তুমি পড়তে। যারা বলত, সিরিয়াল করে বোর্ডের পরীক্ষায় পারবে কী করে? ডাহা ফেল করবে মেয়ে, হাসি মুখে কাজ দিয়ে তাদেরও উওর দিয়ে দিলে তুমি। কথায় বলে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। তুমি সত্যিকারের যোদ্ধা তনিষ্কা। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। ৭৯ শতাংশ নম্বর, সঙ্গে দুটো বিষয়ে লেটার। তোমার জন্য খুব খুব খুশি। মা, বাবা আর তিওয়ারি পরিবার তোমার সাফল্যে ভীষণ খুশি। সিরিয়াল করেও ভালো নম্বর পাওয়া যায়, মনে যদি ইচ্ছাশক্তিটা থাকে। আপনারা সবাই আশীবাদ করুন তনিষ্কা যেন জীবনে আরও ভালো কাজ করতে পারে এবং আরও ভালো মানুষ হতে পারে।"
