অভিনেত্রী হিসেবে যত না নাম-যশ- প্রতিপত্তি তার থেকে অনেক বেশি 'স্টাইল আইকন' হিসেবে জনপ্রিয়। বাংলার ফ্যাশন দুনিয়ার 'ট্রেন্ড মেকার' বললেও অত্যুক্তি হবে না। যে কোনও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অভিনব ফ্যাশন সেন্সের জন্যই লাইমলাইট ছিনিয়ে নেন। তিনি আর কেউ নন, বঙ্গললনা মনামী ঘোষ (Monami Ghosh)। সম্প্রতি 'বেঙ্গলস মোস্ট স্টাইলিশ' অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানের সিজন ৩-এ মনামীর উপস্থিতি আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ছেলেবেলার নস্ট্যালজিয়া উসকে 'ছুটি ছুটি' থিমের পোশাকে মনামীর নজরকাড়া লুক এখন পেজ থ্রির চর্চিত বিষয়। গ্রীষ্মের ছুটির আগেই ছুটির আমেজে মনামী! এখানেই শেষ নয়, চমকের বাকি এখনও আরও অনেক কিছু।
ভাবনার দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করা যায় সেই বার্তাই দিয়েছেন মনামী। এই ড্রেস কিন্তু, কোনও প্রসিদ্ধ ফ্যাশন ডিজাইনার বা ব্র্যান্ডের নয়। একটি এনজিওর শিশুদের হাতের আঁকা দিয়ে তৈরি পোশাক পরে অ্যাওয়ার্ড শোয়ে মধ্যমণি মনামী। নজর কেড়েছে তাঁর হাতের ছুটি ছুটি লেখা কাগজের হলুদ রঙের নৌকা। বলা ভালো, কাগজ কেটে তৈরি পোশাকে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চ মাতালেন মনামী।
ফ্যাশেনিয়েস্তা মনামী জানান, একটি এনজিওর বাচ্চাদের রং-তুলিতে আঁকা ছাতা, চাঁদ, সূর্যের কোলাজে এই পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে। ওদের আঁকা অংশগুলো কেটে ড্রেসের উপর বসানো হয়েছে। এই অভিনব ভাবনার নেপথ্য কারণ নিজেই বাতলে দিলেন মনামী। তাঁর এই পোশাকের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে একসময় টিআরপি চার্টের শীর্ষে থাকা ছোটদের শো 'ছুটি ছুটি'।
স্মৃতির সরণীতে হেঁটে সেই 'ছুটি ছুটি'র আবেগে ভাসলেন বঙ্গকন্যা মনামী। গ্রীষ্মের ছুটিতে একদিনও বাদ দিতেন না এই জনপ্রিয় শো। সময়ের নিয়মে বয়স তো বাড়বেই, কিন্তু আবেগ তো আর বাধ সাধে না! তাই চল্লিশের গণ্ডি পেরিয়েও মেয়েবেলার সেই পুরনো দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে নস্ট্যালজিক মনামী। পুরনো দিনগুলো ফিরে না পেলেও পোশাকের ডিজাইনের মধ্যে দিয়েই যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন অভিনেত্রী!
বেশ উত্তেজনার সঙ্গে বলে উঠলেন, "ছোটবেলায় আমার অত্যন্ত প্রিয় শো ছিল ছুটি ছুটি। একদিনও মিস করতাম না। গ্রীষ্মের ছুটি পড়লেই টিভির সামনে বসে যেতাম। সেই দিনগুলোকেই এখানে ফিরিয়ে এনেছি। এনজিওর বাচ্চাদের আঁকাগুলো দিয়ে পোশাক বানানো হয়েছে।"
হাতে রাখা নৌকা ব্যাগ দেখিয়ে উচ্ছ্বসিত বলে বলেন, "ছোটবেলায় যখনই বৃষ্টি হত তখনই কাগজের নৌকা বানিয়ে জলে ভাসতাম। গরমের ছুটিতে যখনই বৃষ্টি হত আমরা বেরিয়ে পরতাম আর জমা জলে নৌকা ভাসাতাম। তাই আমার ব্যাগেও লেখা ছুটি ছুটি।"
