বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শোনা গিয়েছিল রোজা আহমেদ ও তাহসান রহমান খানের ঘর ভাঙার শব্দ। বছর শুরুতে এই নিয়ে বাংলাদেশের অভিনেতা-গায়ক তাহসান মুখ খুললেও সেভাবে কিছুই বলেননি রোজা। বারবার তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হয়েছে নানা সমালোচনা। বিচ্ছেদ নিয়ে নানা জলঘোলা হলেও স্বামী তাহসানের পদবি রোজার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল। একইসঙ্গে তাঁদের তোলা নানা আদুরে মুহূর্তের ছবি নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রেখেছিলেন রোজা। কিন্তু এবার হঠাৎ সেসবকিছু নিজের সোশাল মিডিয়া থেকে সরিয়েছেন তাহসানের প্রাক্তন দ্বিতীয় স্ত্রী। দম্পতির বিচ্ছেদের নানা আলোচনায় যেন তা একপ্রকার ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
সম্প্রতি সমস্ত সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তাহসানের সঙ্গে তোলা সব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন রোজা। পাশাপাশি নিজের নামের পাশ থেকে সরিয়েছেন তাহসানের পদবিও। লাগাতার তাহসানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে চলা নানা গুঞ্জন ও সমালোচনায় ইতি টানতেই রোজার এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে নেটপাড়ার একাংশ। কারণ তাহসান তাঁদের বিয়ে নিয়ে মুখ খোলার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, একসঙ্গে না থাকলে নিজের সোশাল মিডিয়ায় সেই ছবি রাখার কী অর্থ? এই নিয়ে নানা আলোচনায় নিন্দুকদের চুপ করাতেই কি তাহলে এবার এই পদক্ষেপ করলেন রোজা?
বলে রাখা ভালো, রোজার ইনস্টাগ্রামের প্রথম পিন পোস্টটিই ছিল তাঁর ও তাহসানের বিয়ের ছবি। আর সেই ছবির কমেন্ট বক্সে ইদানিং চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছিল নানা কুমন্তব্য।জীবন থেকে নেতিবাচক বিষয়কে ঝেড়ে ফেলতেই হয়তো এমন পদক্ষেপ রোজার। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন তাহসান রূপটান শিল্পী রোজা ইসলামকে। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রফিয়াত রশিদ মিথিলার সঙ্গে প্রথম বিয়ে ভাঙার বেশ অনেকগুলো বছর পর রোজাকে বিয়ে করেছিলেন তাহসান। মাত্র চারমাসের আলাপেই হয় সেই বিয়ে।
তাহসান ও রোজার বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই তাঁদের বিচ্ছেদের জল্পনা দানা বেঁধেছিল। শোনা গিয়েছিল যে, তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। যদিও তা নিয়ে মুখ খোলেননি তারা কেউই। তবে শোনা যাচ্ছে, গত জুলাই মাস থেকেই নাকি আলাদা থাকছেন তারা। রোজা পেশায় একজন রূপটানশিল্পী। আড়ম্বর এড়িয়ে ঘনিষ্ঠদের নিয়ে বিয়ে সারেন তাঁরা। তবে ৪ জানুয়ারি বিয়ের বছর ঘুরতেই তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নিয়ে কোনও পোস্ট চোখে না পড়লে সকলের মনেই তা নিয়ে সন্দেহ জাগে। তা নিয়ে নেটমাধ্যমে জলঘোলা হলে নিজেই মুখ খোলেন তাহসান। সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে তিনি বলেন, ” নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছি বরাবর। কিন্তু দেখছি বিবাহবার্ষিকীতে বিভিন্নরকম ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। তা আমার চোখ এড়ায়নি। আমি এটুকুই জানাতে চাই যে, আমরা একসঙ্গে থাকছি না।”
