সম্রাট মুখোপাধ্যায়, বাংলা ধারাবাহিকের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। এছাড়াও একটি সংস্থারও মালিক, পাশাপাশি নাট্যদুনিয়ার সঙ্গেও যুক্ত। অভিনেতা হিসেবে সেই চেনা মেজাজ ছাপিয়ে এবার সংবাদের শিরোনামে সম্রাট মুখোপাধ্যায়। বাড়ির পরিচারিকাকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ অভিনেতার বিরুদ্ধে। দুবাই থেকে আনা বহুমূল্যের আংটি চুরির অভিযোগে পরিচারিকাকে মারধর করেছেন! সেই মর্মে হরিদেবপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন মহিলার স্বামী ও ছেলে। থানা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সম্রাটের বাড়ির পরিচারিকার চোট বেশ গুরুতর, মাথায় সেলাইও পড়েছে। এই ঘটনায় পালটা তোপ দেগেছেন অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, দিন দশেক আগে ওই মহিলার উপস্থিতিতেই শাশুড়ি মায়ের গলার চেনও চুরি হয়েছে। তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিলে আজ হয়ত এত বড় ক্ষতি হত না।
পরিচারিকার অভিযোগ নসাৎ করে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে ঘটনার শুরু থেকে শেষ বিশদে জানালেন অভিনেতা।
সম্রাটের বক্তব্য অনুযায়ী, "একটি এজেন্সি থেকে এই ভদ্রমহিলাকে নিয়েছিলাম। কুড়ি থেকে পঁচিশদিন মতো আমাদের বাড়িতে কাজ করছেন। ঘটনার দিন আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশের পাশে আংটি দুটো খুলে স্নানে গিয়েছিলাম। নাটকের মহড়ায় যাওয়ার তাড়াহুড়ো ছিল, তাই আংটি না পরেই বেড়িয়ে যাই। প্রায় পনেরো মিনিট পর যখন মনে পড়েছে আমার বাড়ির দাড়োয়ানকে ফোন করে বলি ঘরে গিয়ে আংটি দুটো নিয়ে ওঁর কাছে রাখতে। ও যখন ঘরে ঢুকেছে তখন দেখছে ওই ভদ্রমহিলা বিছানার চাদর বদলাচ্ছেন। আমি কিন্তু, তখন ফোনের ওপারে সব শুনছি। হঠাৎ ভদ্রমহিলা নিজে থেকেই বলেন আপনি কিছু খুঁজছেন। কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই বিছানার ওপর দাড়োয়ান একটা আংটি দেখতে পায়। তখন দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আমি তখন একটাই কথা বলেছি, ওকে বেরতে দেবে না, খেয়াল রাখো যেন পালিয়ে না যায়। আমি হরিদেবপুর থানায় ফোন করছি।"
এই কথাটাই কীভাবে সমস্যায় ফেলেছে সম্রাটকে? অভিনেতার সংযোজন, "ফোনটা স্পিকারে থাকায় তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরতে গিয়েছিলেন ওই ভদ্রমহিলা। তখন পা পিছলে প্রায় দশ বারোটা সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। দাড়োয়ান সহ আরও এক পরিচারিকা তাঁকে ঘরে এনে বসান। ততক্ষণে আমি মাঝরাস্তা থেকে বাড়ি ফিরে আসি। ওঁর সামনে হাতজোড় করে অনুরোধ করি। কিন্তু, আংটি দেয়নি। উলটে আমার বেডরুমের জিনিসপত্র ফেলে দেওয়ালে অস্বাভাবিকভাবে মাথা ঠুকছে। ইতিমধ্যেই সেখানে পুলিশ আসে। মহিলা পুলিশ ওঁর বডি চেক করেও কিছু পায়নি। এমনটাও বলল যে আংটিটা দিয়ে দিলে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু, কোনও কথাতেই মুখ খোলেনি। পুলিশ তখন আমাকে বলল, রাত দশটা অভধি সময় দেওয়া হোক। যদি তাও না দেয় তাহলে এফআইআর দায়ের করতে। এরপর জামা বদলে বাড়ি চলে যায়। ওই পরিস্থিতিতে আমাদের খেয়াল হয়নি বদলানো পোশাকটাও চেক করা দরকার।"
অবশেষে আংটি পেলেন সম্রাট? সেই প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলেন, "না। দশটার সময়ও যখন কিছু হল না তখন আমি হরিদেবপুর থানায় এফআইআর দায়ের করি। পরে আমি আমার ঘনিষ্ঠ সূত্রে শুনলাম ওই ভদ্রমহিলার স্বামী ও ছেলে এসে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।" এই মর্মে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়। প্রথম প্রশ্ন, "যদি আমি মারধরই করতাম তাহলে আমার বাড়িতে দাড়িয়ে কীভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বললেন? তখন পুলিশকে কেন বললেন না? আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে রাত বারোটা বেজে গেল?" গোটা ঘটনায় সম্রাটের অনুমান, "মহিলাদের বিষয় যেহেতু একটু সংবেদশীল হয় তাই উনিও চাইছেন আমার উপর চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে অভিযোগটা তুলে নিই।"
