তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন। নিজেকে বরাবর 'নাস্তিক' বলেই দাবি করে এসেছেন জাভেদ আখতার। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে বলেছিলেন, "আল্লাহর চেয়ে মোদি ভালো...।" আর সেই প্রবীণ গীতিকারই কিনা এবার সেক্যুলারিজমের পাঠ দিতে গিয়ে বললেন, "এখনকার নেতারা জানেই না ধর্মনিরপেক্ষতা কী!"
জাভেদ আখতারকে বরাবর ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির প্রতিবাদী মুখ হিসেবেই দেখেছে দেশ। এবার ১৯তম জয়পুর সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দিলেন প্রবীণ গীতিকার। ধর্মের নামে যখন দেশে-দেশে দ্বেষ, রক্তারক্তি, হানাহানি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বর্বরতার নিদর্শন দেখে কেঁপে উঠছে সভ্য সমাজ, তখন এমন আবহে জাভেদের মন্তব্য, "সেক্যুলারিজম শেখার কোনও ক্র্যাশ কোর্স হয় না। ধর্মনিরপেক্ষতা আদতে ধারণ করার, যাপন করার বিষয়। ধর্মনিরপেক্ষতা একটি জীবনধারা হওয়া উচিত। এই বোধ আপনাআপনি নিজের মধ্যে আসার কথা। যদি একদিন কারও বক্তৃতা শোনার পর আপনি শুধু কয়েকটি বিষয় মনে রাখেন, তাহলে সেই ধারণা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।" এরপরই রাজনীতিকদের নিশানা করে কটাক্ষবাণ ছোড়েন তিনি।
প্রবীণ গীতিকারের সংযোজন, "এখন তো সেক্যুলারিজম শব্দটিকেই নেচিবাচকভাবে ধরা হয়। কিন্তু আমার নাস্তিক পরিবারে বেড়ে ওঠা। পরিবারের একমাত্র সদস্য আমার ঠাকুমা-ঠাকুরদাকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে দেখেছি মাত্র। কিন্তু ধর্ম নিয়ে বাড়বাড়ন্ত কোনও দিনই আমাদের মধ্যে ছিল না। আমার দিদিমা বলতেন তিনি নিরক্ষর হলেও তাঁর মধ্যে সংবেদনশীলতা ছিল। কিন্তু আজকালকার নেতাদের মধ্যে যদি ধর্মনিরপেক্ষ বোধের নূন্যতম বোধটুকুও থাকত!" সম্প্রতি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে ‘সচ্চা মুসলিম’ হিসেবে নিজেকে ফেজ টুপি পরে দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন জাভেদ আখতার। পুলিশের দ্বারস্থও হন তিনি। এবার ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে ৮০ বছর কাটিয়ে 'সেক্যুলারিজম'-এর নতুন পাঠ দিলেন প্রবীণ গীতিকার।
