Advertisement
করোনার বন্ধ দরজাতেও থমকে যায়নি স্বপ্ন, সাঁতারু ছেলের জন্যই দেশ ছেড়েছিলেন মাধবন
'থ্রি ইডিয়েটস'-এ ফারহান কুরেসির বাবার মতো আপত্তি নয়, বাস্তব জীবনে মাধবন ছেলের স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যরকম গল্পই লিখেছেন।
তিনি দাপুটে অভিনেতা। বেশ কিছু ছবি পরিচালনাও করেছেন। আর মাধবন। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন বাবা। এই গল্পটা আসলে সেই বাবার, যিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাধবনের ছেলের নাম বেদান্ত। ছোটবেলা থেকেই জলের সঙ্গে তার অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব। অন্যরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত, তখন সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত সুইমিং পুলে। ধীরে ধীরে সেই ভালোবাসাই বদলে যায় লক্ষ্যে।
মাধবন তখন শুধু দূর থেকে দেখতেন না। তিনি বুঝতেন, এই স্বপ্নটা বড়। খুব বড়। আর বড় স্বপ্নের জন্য লাগে ত্যাগ। শুটিং, ব্যস্ততা, আলো-ঝলমলে জীবন - সব কিছুর মাঝেও তিনি খেয়াল রাখতেন ছেলের সময়মতো অনুশীলন হচ্ছে কি না, মন ঠিক আছে কি না। কিন্তু তিনি নিজেই একদিন বুঝলেন, এই পথটা শুধু নির্দেশ দিয়ে এগিয়ে দেওয়া যায় না, পাশে দাঁড়াতে হয়।
তারপর এল সেই কঠিন সময়। করোনা। চারদিক বন্ধ, সুইমিং পুল বন্ধ, পৃথিবী যেন থেমে গিয়েছে। কিন্তু স্বপ্ন কি থেমে থাকে? ঠিক তখনই মাধবন ও তাঁর পরিবার এক বড় সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের পরিচিত শহর, স্বস্তির জীবন ছেড়ে পাড়ি দেন দূরের এক শহরে। যাতে ছেলের সাঁতার থেমে না যায়।
সেই সিদ্ধান্তটাই বদলে দিল সবকিছু। দুবাইয়ের জলে নেমে বেদান্ত আবার নিজের ছন্দ খুঁজে পেল। প্রতিদিনের অনুশীলন, নতুন লড়াই, নতুন লক্ষ্য নিয়ে সে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল। আর মাধবন? তিনি হয়তো এখনও মনে করেন, তিনি নিখুঁত বাবা নন। কিন্তু তিনি জানেন, তিনি ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন।
আজ যখন বেদান্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে পদক জেতে, তখন সেটি শুধু একজন সাঁতারুর সাফল্য নয়, এক বাবার বিশ্বাস, এক পরিবারের ত্যাগ আর এক স্বপ্নের গল্প।
বিগত কয়েক বছরে ছেলের কঠোর অনুশীলন ও তার নেপথ্যে পরিবারের ত্যাগের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন মাধবন। তাঁর মতে, একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের পিছনে শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করোনা অতিমারির সময় নেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। লকডাউনের মধ্যে ছেলের কেরিয়ার থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবার-সহ দুবাইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
মাধবনের কথায়, “এটা ছিল সঠিক সময়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি সিদ্ধান্ত। বেদান্ত তখন বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ছিল। সেই সময় যদি ও নিয়মিত সাঁতার কাটতে না পারত, তাহলে ওর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারটাই শেষ হয়ে যেতে পারত।”
করোনা পরিস্থিতিতে মুম্বই-সহ গোটা ভারতে সুইমিং পুল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনুশীলনের সুযোগ কার্যত শূন্যে নেমে আসে বলে জানান অভিনেতা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। মাধবনের বক্তব্য, “জার্মানি, ফ্রান্স, চিন - এই দেশগুলো তখন সুইমিং পুল খুলে দিয়েছিল। সেগুলোকে কোভিড-মুক্ত জোন হিসাবে রাখা হচ্ছিল।”
মাধবনের সংযোজন, “ওরা ছাত্রদের মাসের পর মাস সেখানে থেকে অনুশীলনের সুযোগ দিচ্ছিল। অনেকেই এই সময় বিশ্বরেকর্ডও করেছে। এই সুযোগটা বেদান্ত হারাতে পারত না।”
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 08:37 PM May 20, 2026Updated: 09:19 PM May 20, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
