বিয়েতে স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর রাঙিয়ে দেন স্বামী। সেই চিহ্ন আজীবন বহন করে চলেন স্ত্রী। বিশ্বাস করেন, তাঁর সিঁথির সিঁদুর সমস্ত বিপদ থেকে স্বামীকে রক্ষা করবে। বৈদিক মতে বিয়ের ক্ষেত্রে আবার স্বামী স্ত্রীকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। স্ত্রী আবার পালটা স্বামীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এই রীতি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। বিজয়-রশ্মিকার বিয়েতেও এমনই ব্যতিক্রমী ছোঁয়া। বিশেষত বিজয়ের হাত ও পায়ের আলতা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।
বৃহস্পতিবার উদয়পুরের বিলাসবহুল প্যালেসে বিয়ে সারেন বিজয় ও রশ্মিকা। তেলুগু রীতির পর কর্নাটকের কোডাভা নিয়মানুসারে বিয়ে সারেন দু'জনে। রশ্মিকার পরনে সিঁদুরে লাল রঙের শাড়ি। সঙ্গে গয়নাগাটি। সরু সোনালি পাড়। পাড়ের উপরের দিকে সোনালি জরির নকশা। সঙ্গে বিডসের কাজের ছোট হাতার ব্লাউজ। নবদম্পতির সাজের মূল ইউএসপি যেন গয়নাগাটি। রশ্মিকার গলায় কাসু মালা। গলা থেকে নাভি পর্যন্ত ললন্তিকার স্টাইলে এই হার দক্ষিণী ঐতিহ্যকে বহন করে। হারটির প্রতি ধাপে লকেটে রয়েছে বিশেষত্ব। হারটি সবচেয়ে বড় লকেটে রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী। ছোট তিনটি লকেট কল্কার কাজ। একেবারে গলায় লকেট চাকার মতো। ছোট ও বড় মটরদানার মিশেলে গলার হার এককথায় নজরকাড়া। কানের দুলেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। খোঁপায় ফুল দেননি। সেখানেও বিশেষ গয়নায় সেজেছেন অভিনেত্রী। মাথায় টায়রা ও টিকলি। কোমরে মানানসই কোমরবন্ধ। পরেছিলেন বাজুবন্ধও। তবে তাঁর হাতে, পায়ে আলতা দেখা যায়নি।
বিজয়ের সাজও ছিল নজরকাড়া সারা শরীরে গয়না। যেন দেবদেবীর মতো সেজেছিলেন দু'জনে। বিয়ের সাজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিজয়ের হাত ও পায়ে আলতা।
সাধারণত হাতে নোয়া বাঁধানো। মাথায় সিঁদুর। পায়ে আলতা। কারও কারও ক্ষেত্রে মঙ্গলসূত্র। বিয়ের চিহ্ন হিসাবে এগুলি ধারণ করেন বহু মহিলা। এগুলিকে পবিত্রতার প্রতীক হিসাবেই ধরা হয়। অথচ নববধূ রশ্মিকার শরীরে আলতার চিহ্নটুকুও নেই। অথচ বিজয় হাত-পা ভর্তি আলতা ঘিরে যত কৌতূহল।
অনেকেই বলছেন, বিয়ের রীতি মেনে বিজয় আলতা পরেননি। কারও কারও মতে, শুধুমাত্র হাত ও পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেই আলতা পরেছেন বিজয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, মোটেও না। বিজয় আসলে বিয়ের সাজগোজের মাধ্যমে লিঙ্গ সমতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিয়ের মতো সামাজিক বন্ধনের ভার একা মহিলার নয়। সে দায়িত্বের অংশীদার পুরুষও। আর এভাবেই ভিড়ের মাঝে ব্যতিক্রমী হয়ে গিয়েছেন বিজয়।
