টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে রুদ্রনীলদের (Rudranil Ghosh) বৈঠক। মুখ খুললেন কলাকুশলীরা। মুখ্যমন্ত্রীকে জমা দিলেন রিপোর্টও। পূর্বতন সরকারের চাপ সরিয়ে এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলার সাহস জুগিয়েছেন সিনেপাড়ার অনেকেই। সম্প্রতি টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিরা প্রথমবার মন খুলে নির্দ্বিধায় তাঁদের অভিযোগের কথা বলেছেন। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের আহ্বানে একত্রিত হয়েছিলেন সকলে। তারকা-অভিনেতা, পরিচালক, প্রতিষ্ঠিত প্রযোজকরা প্রতদ্যেকে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছেন। তবে কিছু টেকনিশিয়ানের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল মারাত্মক, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স' তাঁদের ত্রাস! টলিপাড়ার 'আতঙ্ক' স্বরূপের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ।
স্বরূপ বিশ্বাসের আমলে তাঁরা যে ভয়ংকর মানসিক যন্ত্রণার শিকার সেদিন তাঁদের কথায় তা একদম স্পষ্ট। নিজেদের দুঃখকষ্টের কথা জানানোর পাশাপাশি নতুন সরকারের কী পরিকল্পনা সেই প্রশ্নও ছুড়ে দেন। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, "এই মানুষগুলো জীবনে এমন অনুকূল পরিবেশ পাননি। মন্ত্রক অবধি তাঁদের পৌঁছতেই দেওয়া হত না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই আমরা চারজন অর্থাৎ যাঁদের সঙ্গে টালিগঞ্জের যোগ রয়েছে- আমি, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনছি। তথ্য সংগ্রহ করছি।"
আরও জানান, "রাজ্যে পালাবদলের পর স্টুডিওপাড়ার নানান যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে আসছে। সকলেরই আশা, ইন্ডাস্ট্রিতে সুস্থ পরিবেশ ফিরবে। সবটা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাব। বাকি সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চান ভয়মুক্ত সংস্কৃতি জগৎ। কোনওরকম স্বৈরাচার চলবে না।' এই প্রসঙ্গে মারাত্মক অভিযোগ উঠে আসে রূপটান শিল্পী সিমরান পালের বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, "বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমি গিল্ডের একজন পদস্থ ব্যক্তির কাছে কাজ চেয়েও পাইনি। এমনকী আমার কিছু কাজ চলে যায়। তখন ফেডারেশনের সভাপতিকে চিঠি দিলে তা প্রত্যাহার করার জন্য আমার কাছে ক্রমাগত হুমকি আসতে থাকে। বাদ যায়নি প্রাণনাশের হুমকি থেকে অশালীন প্রস্তাবও। সেই প্রসঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসকে ইমেল করেছি, থানায় অভিযোগও জানিয়েছি। এখনও আমি রীতিমতো ভয়ে রয়েছি।" তাঁর সংযোজন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধাচরণ করলে ফল ভালো হবে না এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সংগ্রাম কর্মকার নামক এক টেকনিশিয়ান যিনি বিজেপি সমর্থকের কথায়, দেশের বাইরে কাজ করে আসার পর আসার পরই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এমনকী সেই সময় তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাড়িতে চলে যান। সেখান গিয়েও নিস্তার পাননি, এক প্রভাবশালীর নির্দেশে ১৫-২০ জন মিলে হামলা চালায়। সংগ্রাম জানিয়েছেন, "দুষ্কৃতীরা আমার শরীরে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে থাকে। তখন আমার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে আসে। সেই সময় একটি ইটের আঘাত আমার স্ত্রীর তলপেটে লাগার ফলে মাটিতে পড়ে যায় এবং গর্ভপাত হয়ে যায়। এরপর ওরা আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এর কিছুদিন পর আমাকে একটি দোকানের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। তখন গ্রামবাসীরা আমাকে উদ্ধার করেন। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী দিনে আমাদের ঘর লুঠ করে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কোনও ক্রমে বাবা-মা প্রাণে বাঁচে।" নতুন সরকারের কাছে বর্তমানে প্রত্যেকেরই একটাই আশা, ব্যাভিচারমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি।
