দিনটা ছিল ২০১২ সালের ১৮ জুলাই, প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) জীবনাবসান। মাঝে কেটে গিয়েছে ১৪ বছর। ফের চর্চায় প্রয়াত অভিনেতা, তাও আবার সম্পর্কের আইনি জটিলতার কারণে। অভিনেত্রী অনিতা আডবানি চেয়েছিলেন রাজেশের সঙ্গে তাঁর চর্চিত সম্পর্ককে বৈবাহিক সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই অভিনেত্রী অনিতা আডভানি মুম্বই উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে মুম্বই উচ্চ আদালত।
বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখের একক বেঞ্চ ২০১৭ সালে মুম্বইয়ের দিন্দোশি সেশনস কোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আডবানির দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয়। একইসঙ্গে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পর তাঁর দায়ের করা দেওয়ানি মামলাও খারিজ করা হয়। উচ্চ আদালতের রায়ের কপি তখনও পাওয়া যায়নি।
আডভানি দাবি করেছিলেন যে তিনি বহু বছর রাজেশ খান্নার সঙ্গে একছাদের তলায় একত্রবাস করেছিলেন। ২০১২ সালে অভিনেতার মৃত্যুর আগেও একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। কিন্তু, অভিনেতার প্রয়াণের পর স্ত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া, তাঁদের মেয়ে টুইঙ্কল খান্না এবং জামাই অক্ষয় কুমার তাঁকে মুম্বইয়ের 'আশীর্বাদ' বাংলো থেকে বের করে দেন।
আমৃত্যু একত্রবাসের পর রাজেশের স্ত্রীর অধিকার দাবি অভিনেত্রী অনিতার
আমৃত্যু একসঙ্গে থাকার রাজেশের স্ত্রীর পরিচয়ে বাকি জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন অনিতা। কিন্তু, মুম্বই উচ্চ আদালতের রায়ে তাঁর সেই ইচ্ছে অধরাই রয়ে গেল। বাংলো থেকে উচ্ছেদ করার পর তিনি মাসিক ভরণপোষণ ও মাথা গোজার ঠাঁই হিসেবে বান্দ্রায় একটি তিন কামরার ফ্ল্যাট দাবি করেছিলেন।
২০১৩ সালে অভিনেত্রী অনিতা আডবানি 'ডোমেসটিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট' বা 'ডিভিএ'-অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে তিনি ডিম্পল কাপাডিয়া, তাঁদের দুই মেয়ে টুইঙ্কল খান্না ও রিঙ্কি খান্না, এবং জামাই অক্ষয় কুমারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০১৫ সালে মুম্বই উচ্চ আদালত আডবানির এই অভিযোগ খারিজ করে দেয় এবং ডিম্পল কাপাডিয়া, তাঁর মেয়েরা ও অক্ষয় কুমারের করা আবেদন মঞ্জুর করে।
আমৃত্যু একত্রবাসের পর রাজেশের স্ত্রীর অধিকার দাবি অভিনেত্রী অনিতার
আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় অনিতা আডবানি ও রাজেশ খান্নার সম্পর্ক বিবাহের সমতুল্য নয়। তাই তিনি ডিভিএ-র অধীনে কোনো রকম সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না। আদালত আরও জানায়, যেহেতু আডবানি কখনও পরিবারের অন্য কোনও সদস্যদের সঙ্গে কখনও থাকেননি তাই তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ায় জড়ানো মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়।
