রবিবাসরীয় বিকেলে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুসংবাদ যেন বিষ-হাওয়ার মতো ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলায়। শুটিং চলাকালীন কীভাবে গল্পের নায়ক সমুদ্রের নোনজলে তলিয়ে মৃত্যুর কলে ঢলে পড়ল সেই নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একটা মৃত্যু আর হাজার প্রশ্নের সঠিক উত্তরের অপেক্ষায় স্টুডিওপাড়া থেকে সাধারণ মানুষ। ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে টলিপাড়া। ধ্বনিত হচ্ছে 'জাস্টিট ফর রাহুল' স্লোগান।
'সহজ কথা'-র সেটে যেন এক অদ্ভুত হাহাকার! ওই ঘরের আনাচেকানাচে রাহুলের স্মৃতি একেবারে আষ্টপিষ্ঠে জড়িয়ে থাকবে। তবে বড় পর্দায় মৃত্যুর পরও আরও একবার নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠবেন সকলের প্রিয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। সৌজন্যে তাঁর আগামী ছবি 'আইসিইউ'। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন গাঁটছড়া খ্যাত শ্রীমা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shreema Bhattacherjee)।
যে মানুষটার সঙ্গে দু'দিন আগেও কথা হয়েছে, একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারেননি শ্রীমা। ঘটনার সময় কাজের সূত্রে শহরের বাইরে ছিলেন, তাই এই খবরে মনের ভিতর আরও তোলপাড় করেছিল। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থাতেও ছিলেন না। রাহুলের মৃত্যুর চার দিন পর সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে শুটিং সেটে রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, তিনি ঠিক কেমন ছিলেন সেই গল্প শোনালেন সহকর্মী শ্রীমা। আজও কথা বলার সময় যেন শব্দগুলো গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসছিল।
আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে শ্রীমা বলেন, "জীবন বড়ই অনিশ্চিত। সেদিনও আমার জন্মদিনে কথা হল। প্রমোটার বউদির জন্য শুভেচ্ছা জানাল। তারপরই এইরকম একটা খবর। রাহুলদার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চারিদিকে অনেক কথা শুনছি। আমি সত্যিটা জানতে চাই। এটা জানা আমাদের প্রত্যেকের অধিকার। আমি আর আরিয়ান সেইদিন বাইরে শুটিং করছিলাম। যখন খবরটা শুনলাম প্রথমে ভুয়ো খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু, যখন জানলাম এটা সত্যি তখন চারপাশের সবকিছুই যেন মিথ্যা মনে হচ্ছিল। তবে যত বাধাই আসুক না কেন রাহুলদার মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে যে বিচারের দাবি তোলা হয়েছে আমিও দলেরই একজন।"
শুটিংয়ে যে অনেকসময়ই নিরাপত্তার খামতি থাকে সেই কথা স্বীকার করেছেন শ্রীমা। তাঁর কথায়, "অনেক সময় বাজেট সংক্রান্ত কারনে বা সময়ের অভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কিছুটা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করে নেয়। সেটা অবশ্য তাঁদের কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই করে। কিন্তু, রাহুলদার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নেপথ্যে নিরাপত্তার খামতি ছিল কিনা সেটা অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত।" ছোটবেলা থেকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভক্ত শ্রীমা। কিন্তু, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, "সিনেমা কবে মুক্তি পাবে জানি না। আমাদের ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আচমকা এইরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে সেটা তো কেউ বোঝেনি। রাহুলদা ভীষণ মজার মানুষ। সবসময় সকলের সঙ্গে হাসি মজা করে কাজ করে। ওঁর থেকে অনেক কিছু শিক্ষণীয় বিষয় আছে। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীবন দর্শন নিয়ে নানান আলোচনা হত। মানুষটার সঙ্গে যত কথা বলতাম ততই যেন নতুন কিছু শেখা যেত। লাঞ্চ ব্রেক হোক বা প্যাকআপের শেষে আমরা উনো খেলতাম। প্রত্যেকটি বিষয় রাহুলদা ছিল একশো শতাংশ সৎ। ছোট থেকে রাহুলদার ভক্ত ছিলাম, কিন্তু, কাজ করতে গিয়ে বুঝলাম কতটা প্রতিভাবান ছিল। একজন অভিনেতা হিসেবে রাহুলদা একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। আমাদের হৃদয়ে চিরদিন থেকে যাবে।"
