গত ১৯ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিংয়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের এহেন আকস্মিক প্রয়াণে অনেকেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছিলেন! তার ভিত্তিতেই পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে জুবিন গর্গের মৃত্যুতদন্তের জন্য 'সিট' গঠন করে অসম সরকার। সেসময়ে হিমন্ত বলেছিলেন, "আমরা যদি জুবিনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে কেনই বা আপনারা ২০২৬ সালে আমাদের ভোট দেবেন?" এবার গায়কের মৃত্যুর মাস ছয়েক বাদে সিঙ্গাপুর আদালতের রায়ে সমস্ত রহস্যের মেঘ কাটল।
গত ডিসেম্বরে চার্জশিট জমা দেওয়ার সময়েও জুবিন মুত্যুকে 'দুর্ঘটনা' নয়, বরং 'খুন' বলে উল্লেখ করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তাঁর উদ্যোগে গঠন করা 'সিট'-এর তদন্তের ভিত্তিতে গায়কের পাঁচ সিঙ্গাপুর সফরসঙ্গীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এবার সিঙ্গাপুর আদালত পুলিশ কোস্ট গার্ডের রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে জানাল, লাজারস দ্বীপের কাছে সমুদ্রে ডুবেই মৃত্যু হয়েছিল গায়কের।
জুবিনের (Zubeen Garg) মৃত্যুর হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছিলেন, বিদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন অসমের ভূমিপুত্র। গত ডিসেম্বরে চার্জশিট জমা দেওয়ার সময়েও জুবিন মুত্যুকে 'দুর্ঘটনা' নয়, বরং 'খুন' বলে উল্লেখ করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তাঁর উদ্যোগে গঠন করা 'সিট'-এর তদন্তের ভিত্তিতে গায়কের পাঁচ সিঙ্গাপুর সফরসঙ্গীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এবার সিঙ্গাপুর আদালত সেখানকার পুলিশ কোস্ট গার্ডের রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে জানাল, গত সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরের লাজারস দ্বীপের কাছে সমুদ্রে ডুবেই মৃত্যু হয়েছিল ৫২ বছর বয়সি গায়কের।
জুবিন গর্গ। ছবি- ইনস্টাগ্রাম
জুবিন গর্গের মুত্যুতে 'খুনের ষড়যন্ত্রে'র অভিযোগে বিগত কয়েক মাসে অসমের রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় বয়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আগেই অনুমান করেছিল যে, সংশ্লিষ্ট ইস্যু অসমের আসন্ন বিধানসভা ভোটে শাসকদলের অন্যতম 'অস্ত্র' হতে পারে। এবার সিঙ্গাপুর আদালত 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' খারিজ করায় অসমের ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কি কোনও প্রভাব পড়বে?
রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে আদালতের শুনানিতে জানানো হয়েছে, "মৃত্যুর দিন জুবিন গর্গ অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন। টক্সিকোলজি রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের (জিন, হুইস্কি) মাত্রা ছিল ৩৩৩ মিলিগ্রাম (প্রতি ১০০ মিলিলিটারে), যা সিঙ্গাপুরের আইনসীমার (৮০ মিলিগ্রাম) থেকে কয়েক গুণ বেশি। আর অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরেই তাঁর শারীরিক ভারসাম্য ও বিচারক্ষমতা লোপ পেয়েছিল। ঘটনার দিন জুবিন বন্ধুদের সঙ্গে ইয়টে করে সমুদ্রে গিয়েছিলেন। প্রথমবার লাইফ জ্যাকেট পরলেও, দ্বিতীয়বার তিনি সেই জ্যাকেট ব্যবহার করতে অস্বীকার করেন। ইয়টের ক্যাপটেন এবং সহযাত্রীরা বারংবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জুবিন গর্গ কারও কথা কানে তোলেননি। এরপর সাঁতার কেটে ফেরার পথে মাঝসমুদ্রেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।" এদিকে জুবিন গর্গের মুত্যুতে 'খুনের ষড়যন্ত্রে'র অভিযোগে বিগত কয়েক মাসে অসমের রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় বয়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আগেই অনুমান করেছিল যে, সংশ্লিষ্ট ইস্যু অসমের আসন্ন বিধানসভা ভোটে শাসকদলের অন্যতম 'অস্ত্র' হতে পারে। এবার সিঙ্গাপুর আদালত 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' খারিজ করায় অসমের ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা? নজর থাকবে সেদিকে।
