গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোনও ফরম্যাটেই সুযোগ পাননি তিনি। বারবার অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয়েছে এই অভিজ্ঞ জোরে বোলারের। অবশেষে সেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন রুবেল হোসেন (Rubel Hossain)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলা পেসার সোশাল মিডিয়ায় বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানান।
বিরাট কোহলির সঙ্গে এক সময় মাঠের লড়াইয়ে বিতর্কের কারণে আলোচনায় উঠে আসা এই পেসার জানান, জাতীয় দল সবসময়ই তাঁর আবেগের জায়গা হলেও এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় রুবেল লেখেন, 'আমি পেসার রুবেল হোসেন। আমি বাংলাদেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু এক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়তেই হয়। সেই চিন্তা থেকেই আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালাম।'
চোট-আঘাতের কারণে শেষ কয়েক বছরে দলে নিয়মিত হতে পারেননি তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুবেল। তিনি লেখেন, 'তবে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে চাই। আমার পরিবার, বন্ধু, সাংবাদিক এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে সমর্থন করে যাবেন।' উল্লেখ্য, জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি শেষবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাঠে নেমেছিলেন।
তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে দুর্দান্ত স্পেলে তিনি ইয়ন মরগান ও ইয়ান বেলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পরে স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনকে আউট করে ৪ উইকেট শিকার করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জুড়ে পেস বোলিং ট্যালেন্ট হান্টে তৎকালীন কোচ চাম্পাকা রামানায়েকের নজরে পড়ে জাতীয় দলে সুযোগ পান রুবেল। স্লিং-অ্যাকশন ও ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করার ক্ষমতা তাঁকে দ্রুতই আলোচনায় নিয়ে আসে। ওয়ানডে অভিষেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসাবে চার উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। টেস্ট ক্রিকেটে ২৭ ম্যাচে ৩৬ উইকেট পেলেও ওয়ানডেতে বেশি সফল ছিলেন রুবেল। ১০৪ ম্যাচে ১২৯ উইকেট শিকার করেন। গড় ৩৪.৩১। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক-সহ ২৬ রানে ৬ উইকেটে পেয়েছিলেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলাকালীন এক ত্রিদেশীয় সিরিজে বিরাট কোহলির সঙ্গে মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন রুবেল হোসেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ম্যাচ চলাকালীন কোহলির স্লেজিংই সেই ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়। রুবেলের কথায়, “দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের একটা ম্যাচ চলছিল। কোহলি খুব স্লেজিং করছিল। আমাদের ব্যাটারদের অনেক কথা বলছিল। আমরা জানতাম কীভাবে এর মোকাবিলা করতে হয়। কোহলির সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল আমার। আম্পায়ার এসে মেটান।” এরপর ২০১১ বিশ্বকাপেও দু'জনের মধ্যে উত্তেজনার মুহূর্ত দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কোহলিকে আউট করার পর রুবেলের উচ্ছ্বাস নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
