বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আফগানিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran)। আফগান ক্রিকেটের উন্নতির অন্যতম মুখ ছিলেন এই বাঁহাতি বোলার। এবার মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। তাঁকে বাঁচাতে রক্ত চাই। সোশাল মিডিয়ায় রক্তের আর্জি জানালেন শাপুরের ভাই ঘামাই জাদরান।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে আইসিইউ’তে ভর্তি তিনি। ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) রোগের কারণে দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন শাপুর। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তাঁর ছবি দেখে মন খারাপ ক্রিকেটভক্তদের। জাদরানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। লম্বা চুল উড়িয়ে জোরাল গতিতে বল করতেন। সেই পেসার এখন হাসপাতালের বেডে কুঁকড়ে শুয়ে আছেন।
সোশাল মিডিয়ায় ঘামাই লিখেছেন, 'আমার ভাই, জাতীয় নায়ক শাপুর জাদরানের স্বাস্থ্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আপনাদের প্রার্থনা জাদরানের সঙ্গে আছে। কিন্তু ঘাটতি ও জরুরি প্রয়োজনের জন্য রক্তের তীব্র প্রয়োজন। যদি কেউ দিল্লিতে বাস করেন এবং তাঁর রক্তের গ্রুপ যদি এ পজিটিভ হয়, তাহলে দয়া করে আমাদের দেশের জাতীয় বীরকে রক্তদান করতে দ্বিধা করবেন না।' সঙ্গে তাঁর ঠিকানা ও ফোন নম্বর।
চলতি বছরের শুরুতেই এই রোগে আক্রান্ত হন জাদরান। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মিরওয়াইস আশরাফ দ্রুত আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অন্যদিকে আফগান তারকা রশিদ খান কথা বলেন গুজরাট টাইটান্সের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। উভয়পক্ষের চেষ্টায় দ্রুত ভারতীয় ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম ২০ দিন নিয়মিত পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তারপর ফের সংক্রমণ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর রক্তের শ্বেতকণিকার পরিমাণ বিপজ্জনক ভাবে কমে গিয়েছে। জাদরানের সুস্বাস্থ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন দেশবিদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
২০০৯ সালে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। রিফিউজি হয়ে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। সেই সময় মহম্মদ নবি, দওলাত জাদরানদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ২০০৯ সালে আফগানিস্তান যখন প্রথম ওয়ানডে খেলে, সেই দলে ছিলেন শাপুর। আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট পেয়েছিলেন। সে দেশের ক্রিকেট সফরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে কাবুলে জঙ্গি হানার কবলে পড়েছিলেন। অজ্ঞাত আততায়ী তাঁকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়েছিল। সে যাত্রায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। এবার ফের মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন শাপুর।
