গত বছরের শেষে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরে তিন ফরম্যাটেই একটা করে সিরিজ খেলে পাকাপাকিভাবে অবসর নিতে চান। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) সেই স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ইচ্ছাপূরণে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কবে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন, সেই দিনক্ষণও ঠিক করে ফেলেছে তারা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর মার্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে শাকিবকে ফেরানোর পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এমনই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বিসিবি'র পরিচালক আসিফ আকবর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর মার্চের মাঝামাঝি সময় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ আসবে পাকিস্তান। এই সিরিজের মাধ্যমেই শাকিবকে দলে ফেরানো হতে পারে বলে আশাবাদী আসিফ।
তাঁর কথায়, "এই ব্যাপারে আমাদের বোর্ড সভাপতি সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমাদের আশা, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজেই শাকিবকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে পাব। আমরা সবাই চাই শাকিব দেশের হয়ে খেলুক। তবে ওর আসার সুযোগটা তো তৈরি হোক। এরপর খেলা চালিয়ে যাবে কি না, সেটা ওর সিদ্ধান্ত।"
বিসিবি'র পরিচালক বলছেন, "আমাদের আশা, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজেই শাকিবকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে পাব। আমরা সবাই চাই শাকিব দেশের হয়ে খেলুক।"
দিন ছয় আগে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, শাকিব নাকি হোম ও অ্যাওয়ে, দুই ধরনের সিরিজে খেলতেই রাজি হয়েছেন। শাকিব এখন আমেরিকায় থাকেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরই আওয়ামি লিগের প্রাক্তন সাংসদ বাংলাদেশে ফেরেননি। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ‘শেষ’ টেস্ট দেশের মাটিতে খেলা হয়নি। এমনকী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়কের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল হত্যা মামলা। ছাত্র আন্দোলনের সময় মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন রুবেল নামে এক পোশাক শ্রমিক। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাতেই হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছিল এই তারকা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে।
শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন শাকিব। বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছে। দেশের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলতে চাইলেও শাকিবকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশে তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি শেয়ার বাজারে অর্থ আত্মসাৎ মামলা তদন্তের কারণে জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও আওয়ামি লিগের প্রাক্তন সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবও করেছিল বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। তাহলে হঠাৎ এমন কী পরিবর্তন হয়ে গেল যে শাকিব বাংলাদেশে খেলতে রাজি হয়ে গেলেন? অনেকে মনে করছেন, বিশ্বকাপে না খেলার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই শাকিবকে ‘তাস’ হিসাবে খেলাচ্ছে বিসিবি।
এহেন শাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ২০০৬ সালে। ১৪ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক রান করেছেন তিনি। ৭০০-রও বেশি উইকেট নিয়েছেন। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসের পর থেকে বাংলাদেশ ফেরেননি শাকিব। এখন কাউন্টি ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলছেন তিনি। এখন দেখার, ৩৮ বছর বয়সি অলরাউন্ডার আদৌ বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলেন কি না।
