আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে চলে যাচ্ছেন অনেকে। এটাই যেন বহু ক্রিকেটারের কাছে নতুন কেরিয়ার প্ল্যান। জাতীয় দলে সুযোগ কমে যাওয়া বা ঘরোয়া ক্রিকেট এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তুলনামূলক কম বয়সেই অবসর নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অবসরের পর বিদেশের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে নেমেছেন একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটার। এবার সেই প্রবণতা রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)।
একাধিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের ভার্চুয়াল বৈঠকে ক্রিকেটারদের জন্য পাঁচ বছরের ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে অবসরের পর বিদেশি লিগে খেলতে যাওয়ার আগে ক্রিকেটারদের নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ বিষয়ে এক বিসিসিআই কর্তা বলেছেন, “খেলোয়াড়রা যাতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবেন, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তবে কোনও নিয়ম কার্যকর করার আগে সবদিক খতিয়ে দেখা হবে।”
বোর্ড সূত্রের খবর, সক্রিয় ভারতীয় ক্রিকেটারদের দ্রুত অবসর নিয়ে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যোগ দেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। যদিও পাঁচ বছরের কুলিং-অফ পিরিয়ড চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিসিসিআই সভাপতি ও সচিব। আরও এক বোর্ড কর্তার বক্তব্য, “বিদেশি লিগে খেলার পর কোনও ক্রিকেটার যদি ভারতীয় ক্রিকেটে ফিরতে চান, তাহলে অন্তত পাঁচ বছরের কুলিং-অফ পিরিয়ড থাকা উচিত। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”
সম্প্রতি ভারতীয় অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর অবসর ঘোষণা করে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল ক্যান্ডি রয়্যালসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ৩২ বছর বয়সে অবসর নিয়েছেন কেএস ভরত। এর আগে দীনেশ কার্তিক, যুবরাজ সিং, উন্মুক্ত চাঁদ, প্রবীণ তাম্বে এবং ইরফান পাঠানের মতো ক্রিকেটাররাও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে সরে গিয়ে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিয়েছেন। এবার ‘রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানে’ লাগাম পরিয়ে নয়া নিয়ম আনার কথা ভাবছে বিসিসিআই। এখন দেখার, আলোচনা শেষ করে বোর্ড শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।
