কল্যাণীর এই ম্যাচ সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ছিল প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। এবার রনজির শুরুটা বেশ ভালো করেছিলেন তিনি। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই খেলেন ৯৮ রানের একটা ঝকঝকে ইনিংস। তবে পরের গুজরাত ম্যাচে চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যান এই বঙ্গ ব্যাটার। সেই সুদীপ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম দ্বিশতরান হাঁকালেন। বাংলা গড়ল ৫১৯ রানের পাহাড়। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ১২৬ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে সার্ভিসেস।
জিতলেই রনজির নকআউটে পা রাখবে দল। এই মানসিকতা নিয়েই নেমেছেন বাংলার ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার টসে জিতে বাংলাকে ব্যাট করতে পাঠায় সার্ভিসেস অধিনায়ক রজত পালিওয়াল। এই সিদ্ধান্ত কার্যত বুমেরাং হয়ে যায় তাদের কাছে। ৪ উইকেটে ৩৪০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলা প্রথমেই সুমন্ত গুপ্তর (৩৬) উইকেট হারায়। এরপর শাকির গান্ধীকে (৯১) নিয়ে ১৪৭ রানের জুটি গড়েন সুদীপ। তাঁর ৩২৭ বলে ২০৯ রানের ইনিংসটিতে ছিল ইনিংসে ১৮ চার ও একটি ছক্কা। যখন সাজঘরে ফিরছেন, স্কোর বোর্ডে ৪৯২ রান।
তবে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন শাকির। ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আকাশ দীপ (১), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১), মহম্মদ শামি (৬), মুকেশ কুমাররা (০) রান পান পাননি। বাংলা শেষ পর্যন্ত ৫১৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। সার্ভিসেসের হয়ে বিনীত ধনকর নেন ৩ উইকেট। অর্জুন শর্মার শিকার ২ উইকেট। অমরজিৎ সিং, জয়ন্ত গোয়াত, আদিত্য দীপক কুমার ভাগ করে নেন একটি করে উইকেট।
জবাবে শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি সার্ভিসেস। শুভম রোহিলা এবং গৌরব কোচারের (৯) ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৪১ রান। সার্ভিসেসকে প্রথম ধাক্কা মহম্মদ শামির। তাঁর বলে কার্যত ঠকে ক্লিন বোল্ড গৌরব। এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ের সামনে পড়ে তারা। মুহূর্তের মধ্যে ৫৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় তাদের। সাতে নামা নকুল শর্মা (৩২) করেন সর্বোচ্চ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শুভমের (৩০)। দিনের শেষে সার্ভিসেসের রান ৮ উইকেটে ১২৬। আকাশদীপ ও সুরজ পেয়েছেন ৩টি করে উইকেট। শামির শিকার ২ উইকেট নিয়েছেন। এখনও ৩৯৩ রানে পিছিয়ে সার্ভিসেস। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে প্রথম ইনিংসে হয়তো বড় লিড পেতে চলেছে বাংলা।
