এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ছিলেন সমালোচকদের 'পছন্দের' ক্রিকেটার। কেন তাঁকে ক্রমাগত খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে? সেটা কি শুধুই কোচ গৌতম গম্ভীরের 'প্রিয়পাত্র' বলে? শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে সম্ভবত তার উত্তর দিয়ে দিলেন ভারতীয় পেসার। প্রথম টেস্টে ৩ উইকেট, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেই তিন উইকেট হয়ে গিয়েছে। আসলে সমালোচনা সত্ত্বেও ভারতীয় দল জানে, কীভাবে 'গাধার খাটনি' খেটে চলেছেন প্রসিদ্ধ। সেটাই তাঁর কামব্যাকের মূলমন্ত্র।
আইপিএলের দুনিয়ায় বহু পরিচিত। সেই তুলনায় টিম ইন্ডিয়ায় অভিষেক হয়েছে একটু দেরিতে। ২০২৩-এ টেস্টে জায়গা পান। লম্বা, গতিশীল, পিচের বাউন্স কাজে লাগাতে পারেন। সম্ভবত সেই কারণেই গম্ভীরের এত পছন্দের। সামনের বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেখানে প্রসিদ্ধর গুণগুলো কাজে লাগবে। টেস্টেও ৯ ম্যাচে ৩১ উইকেট হয়ে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার স্পিন সহায়ক পিচেও উইকেট তুলেছেন। বিশেষ করে প্রথম টেস্টের শেষের দিকে যেভাবে একপ্রান্ত থেকে ধারাবাহিকভাবে চাপ তৈরি করে গিয়েছেন, তা প্রশংসাযোগ্য।
সেই প্রশংসা করতে ভোলেননি ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তিনি বলেন, "প্রসিদ্ধর মানসিকতার প্রশংসা করতে হয়। মিডিয়া ওর সমালোচনা করছে। ধারাভাষ্যকাররা ছেড়ে কথা বলছে না। ভারতের কোটি কোটি সমর্থককে খুশি করতে হবে। সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। তারপরও যেভাবে বল করছে, তা চমকে দেওয়ার মতো। কে কী বলছে, সেসব ভুলে ও খেলাটা উপভোগ করছে। আমরা জানি ওর ক্ষমতা কতটা। আমাদের কাজ হল প্রসিদ্ধকে আত্মবিশ্বাস দেওয়া। কাজটা কঠিন। কখনও কখনও শুধু গাধার খাটনি খেটে যেতে হয়। কিন্তু আমি মনে করি ও দারুণ বল করছে।"
তার নমুনা শ্রীলঙ্কার মাটিতে পাওয়া যাচ্ছে। স্কোরবোর্ডে উইকেট সংখ্যা দিয়ে সবসময় সেটা বিচারও করা যায় না। হার্ড লেংথে ধারাবাহিকভাবে বল করে কামিল মিশারাকে নাস্তানাবুদ করেছেন। আবার কখনও ব্যাক অফ দ্য লেংথে লাহিরু উদারাকে আউট করেছেন। অত্যন্ত শৃঙ্খলা দেখিয়েছেন। সেভাবেই ভারতকে ভরসা দিচ্ছেন প্রসিদ্ধ।
