টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতশ্রী ফলাফলের পর থেকে ঘরে-বাইরে সমালোচনায় বিদ্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এবার পিসিবি'কে ধুয়ে দিলেন সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রাক্তন গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten)। কোচের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিষাক্ত কর্মসংস্কৃতির কথা তুলে ধরেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযথা নাক গলানো নিয়ে মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবি'র কড়া সমালোচনা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে কোচ নিয়োগ করার দরকারই বা কী?
টকস্পোর্ট ক্রিকেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্স্টেন জানান, পাকিস্তানের কোচ হিসাবে কাজ করার সময় তিনি যেভাবে বাইরের হস্তক্ষেপ দেখেছেন, তা তাঁর দীর্ঘ কোচিং কেরিয়ারে আগে কখনও ঘটেনি। "যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হল হস্তক্ষেপের মাত্রা। আমার মনে হয় না এর আগে কখনও এমন পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দেখেছি। বাইরে থেকে এই পর্যায়ের কোলাহল হলে তো কোনও কোচের পক্ষে দল পরিচালনা করা অসম্ভব। তার উপর আবার পারফরম্যান্স খারাপ হলে সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা কাজ করে।" বলছেন প্রাক্তন প্রোটিয়া ওপেনার।
দলের ব্যর্থতায় কোচদের 'বলির পাঁঠা' বানানোর প্রবণতা পাকিস্তান ক্রিকেটে বহু পুরনো। সমস্ত দায় নিজেদের গা থেকে ঝেড়ে পিসিবি কর্তারা দোষ চাপিয়ে দিতেন কোচিং স্টাফেদের উপর। এই 'নোংরা' সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কার্স্টেন। তাঁর কথায়, "দল ব্যর্থ হলেই কোচই হল সবথেকে সহজ লক্ষ্য। তখন হয় কোচের উপর কোপ মারো, নয়তো তার ক্ষমতা কমিয়ে নানান বিধিনিষেধ আরোপ করে। এমনই যদি হয়, তাহলে কোচ নিয়োগ করার দরকারই বা কী?"
২০২৪ সালের এপ্রিলে দু'বছরের চুক্তিতে পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল কার্স্টেনকে। কিন্তু মাত্র ছ'মাসের মধ্যে অক্টোবর মাসেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এই সময়কালের মধ্যে একটিও ওয়ানডে খেলেনি পাক দল। পাকিস্তান অধ্যায় চুকে যাওয়ার পর তিনি এখন শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের প্রধান কোচ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দু'বছরের চুক্তিতে লঙ্কানদের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বিশ্বজয়ী কোচ।
