তিনি নাকি গৌতম গম্ভীরের লবির শিকার! কিন্তু প্রতিভাকে কি কোনও কোনও কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা যায়? নাহ যায় না। আর সে কথা বারবার প্রমাণ করছেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক শুভমান গিল। আফগান্তিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও উজ্জ্বল তাঁর ব্যাট। দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকালেন। একই সঙ্গে সেঞ্চুরি ঈশান কিষানেরও। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই বাঁহাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার যেভাবে খেলছেন, তাতে আপ্লুত না হয়ে পারা যায় না।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে সেঞ্চুরি। ধরমশালায় প্রথম ওয়ানডে-তে ৮৪-র পর এবার একানা স্টেডিয়ামে ৭৭ বলে শতরানের দেখা পেলেন শুভমান গিল। ইনিংসে ছিল ১৩ চার এবং ২ ছক্কা। এটা তাঁর কেরিয়ারের নবম ওয়ানডে শতরান। প্রথম ওয়ানডে-তে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম দ্রুততম ৩,০০০ রান (৬২ ইনিংসে) করার নজির গড়েছিলেন গিল। এই তালিকায় সবার উপরে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার হাশিম আমলার রেকর্ড। প্রোটিয়া ব্যাটার ৫৭ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছিলেন। এদিন তাঁর সংগ্রহ ১৫৪।
দুরন্ত সেঞ্চুরি শুভমান গিলের। ছবি সংগৃহীত।
শুভমান গিলের পর ঝাঁ-চকচকে শতরান করলেন ঈশান কিষানও। মাত্র ৭১ বলে ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ব্যাটার। শতরানের পর আরও আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১২৫ রান করে আউট হন ঈশান। নাঙ্গিয়ালিয়া খারোটের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে পরিবর্ত ফিল্ডার ইকরাম আলিখিলের হাতে ধরা পড়েন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কা।
একানা স্টেডিয়ামে এটি ছিল ঈশানের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তবে এই সেঞ্চুরির পথে তিনি আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। নিজের ২৬তম একদিনের আন্তর্জাতিক ইনিংসে ১,০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। এর ফলে দ্রুততম ১,০০০ একদিনের আন্তর্জাতিক রান করা ভারতীয়দের তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে উঠে এলেন ঈশান। এই তালিকায় শীর্ষে শুভমান গিল। মাত্র ১৯ ইনিংসে হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন তিনি। এরপর রয়েছেন বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান। তাঁরা দু’জনেই ২৪ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২৫ ইনিংসে ১,০০০ রান পূর্ণ করেছিলেন নভজ্যোত সিং সিধু এবং শ্রেয়স আইয়ার। আর এবার ২৬ ইনিংসে সেই কৃতিত্ব অর্জন করলেন ঈশান কিষান।
সেঞ্চুরির পর ঈশান কিষান। ছবি সংগৃহীত।
এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি। তাঁর সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায়। গিল, ঈশান ছাড়াও রান পেয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা (৪৮)। যদিও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাও নজরে আসে। রান পাননি শ্রেয়স আইয়ার (২৬), কেএল রাহুল (০), ওয়াশিংটন সুন্দররা (১৭)। শেষ পর্যন্ত ৪০২ রানে অলআউট হয় ভারতের ইনিংস।
