ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের টিকিট ঘিরে বড়সড় কালোবাজারির অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজধানীতে। দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কয়েক জন কর্তার যোগসাজশে কমপ্লিমেন্টরি টিকিট চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনাটি ২৭ এপ্রিলের। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ঘরের মাঠে বিরাট কোহলির দল খেলতে নামায় টিকিটের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সেই সুযোগেই সক্রিয় হয় একটি চক্র, অভিযোগ তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ম্যাচের এক হাজারেরও বেশি কমপ্লিমেন্টরি টিকিটেরও কালোবাজারি হয়েছে। প্রতিটি টিকিটের দাম উঠেছিল ৮০ হাজার টাকারও বেশি। ম্যাচের গুরুত্ব এবং সময় অনুযায়ী টিকিটের দাম ৮ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল।
দিল্লি-বেঙ্গালুরু ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের চত্বর থেকে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে মুকিম (৩৫), গুফরান (৩৬) এবং মহম্মদ ফয়জল (৩৮)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে পঙ্কজ যাদব নামে এক পেট্রল পাম্প কর্মীর নাম। তাঁকে গ্রেফতার করার পর তদন্তের জাল গড়ায় ডিডিসিএ-র কয়েক জন কর্তার দিকে। পুলিশ জানায়, "ডিডিসিএ কর্তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র কাজ করছিল। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তারা টিকিটের দাম নির্ধারণ করত।" তদন্তকারী এক আধিকারিকের কথায়, "ম্যাচ এবং খেলোয়াড়দের গুরুত্ব বিচার করে কালোবাজারে টিকিটের দাম ঠিক করা হত। খেলার সময় যত এগিয়ে আসত, ততই বাড়ত দাম।"
আরও এক পুলিশ কর্তার দাবি, "দিল্লি-বেঙ্গালুরু ম্যাচের কিছু কমপ্লিমেন্টরি টিকিটের দাম ৮০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।" গত বৃহস্পতিবার ডিডিসিএ-র চার জন কর্তাকে ডেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরা করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দু’জন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দিল্লিতে আয়োজিত আইপিএলের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় এক হাজার কমপ্লিমেন্টরি টিকিট কালোবাজারির জন্য চলে যেত। যে টিকিটগুলি বিনামূল্যে ক্রিকেটপ্রেমীদের দেওয়ার কথা, সেগুলিই বিক্রি করা হত মোটা টাকার বিনিময়ে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের ম্যাচের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ টিকিট স্থানীয় আয়োজক সংস্থাকে কমপ্লিমেন্টরি হিসাবে দেয়। দিল্লি ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষও সেই নিয়ম মেনেই টিকিট দেয় ডিডিসিএ-কে। অভিযোগ, সেই টিকিটই কয়েক জন কর্তার যোগসাজশে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। ঘটনায় জোর তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
