চেন্নাই সুপার কিংস: ১৫৮/৭ (রুতুরাজ- ৭৪*, রাবাডা- ২৫/৩)
গুজরাট টাইটান্স: ১৬২/২ (সুদর্শন-৮৭, বাটলার-৩৯*)
৮ উইকেটে জয়ী গুজরাট টাইটান্স
শনিবার রানের বিচ্ছুরণ দেখেছিল আইপিএল। ডবল হেডারের দুই ম্যাচের চার ইনিংস মিলিয়ে উঠেছিল ৯৮৬ রান। এর মধ্যে আবার ২৬৫ রানের এভারেস্ট টপকে ৭ বল বাকি থাকতেই ড্যাংড্যাং করে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব। তবে 'চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়'। চব্বিশ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই রোববার চেন্নাই সুপার কিংস বনাম গুজরাট টাইটান্স ম্যাচে দেখা গেল অন্য চিত্র। সেখানে রান পেতে কালঘাম ছুটল ব্যাটারদের। প্রথমে ব্যাট করে ধুঁকতে থাকা সিএসকে'কে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় নিয়ে গেলেন ১৫৮ রানে। সেই মাত্র ২ উইকেটে পূরণ করতে গুজরাট নিল ১৬.৪ ওভার।
এদিন টসে জিতে চেন্নাইকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠালেন গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল। এদিনও মাঠে নামলেন না 'ফিট' ধোনি। তবে উইকেটের চরিত্র একেবারে ঠিক বুঝেছিলেন গিল। তাঁর প্রমাণ পাওয়া গেল চেন্নাই ইনিংস শুরু হতেই। কচ্ছপ গতিতে রান উঠতে শুরু করল। ১৫ বলে ১১ করে আউট হলেন চেন্নাইয়ের অন্যতম ভরসা সঞ্জু স্যামসন। তবে আউট হওয়ার আগে আইপিএলের সর্বকালের নজিরের তালিকায় টপকে গেলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং সুরেশ রায়নাদের। জায়গা করে নিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্সদের সঙ্গে, একই কাতারে। কী সেই রেকর্ড? আইপিএল কেরিয়ারে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন। ১৮০ ইনিংসে ৩৫৫৫ বলে এই রান করে ৫ হাজার রান করলেন। ৩৬২০ বলে পাঁচ হাজার পূর্ণ করেছিলেন সুরেশ রায়না। একই সঙ্গে টপকে গেলেন ধোনি এবং কেএল রাহুলকে। সব মিলিয়ে সঞ্জু তিনে। তাঁর আগে রয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স এবং ডেভিড ওয়ার্নার।
সঞ্জু ফিরতেই থরহরিকম্প অবস্থা হয় সিএসকে। একে একে ব্যর্থ উরভিল প্যাটেল (৪), সরফরাজ খান (০), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২)। একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালান চেন্নাই অধিনায়ক। প্রথমে তাঁকে সঙ্গে দেন শিবম দুবে (২২)। এরপর কার্তিক শর্মা (১৫), জেমি ওভারটনরা (১৮) কার্যকারী ইনিংস খেলেন। একটা সময় ১২ ওভারে মাত্র ৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছিল চেন্নাই। সেখান থেকে প্রায় একার লড়াইয়ে চেন্নাইকে সম্মানজনক রানে পৌঁছে দেন রুতুরাজ। ৬০ বলে ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজানো ছিল ছ'টি চার ৪টি ছক্কায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে চেন্নাই থামে ৭ উইকেটে ১৫৮ রানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে 'ধীরে চলো' নীতি নেন গুজরাটের দুই ওপেনার শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শন। পাওয়ার প্লে-র পরের ওভারে নূর আহমেদের বলে ফিরলেন শুভমান গিল। তাঁর সংগ্রহ ২৩ বলে ৩৩। তারপর উইকেট পড়ল, এমন একটা সময় যখন গুজরাটের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ৪ রান। আকিল হুসেনের বলে সাজঘরে ফিরলেন সাই সুদর্শন। প্রথম দিকে পিচের চরিত্র বুঝে খুনে মেজেজে অবতীর্ণ হলেন সাই। ৪৬ বলে ৮৭ রানের 'সুদর্শন' ইনিংসই টানা দু'ম্যাচ হারের পর জয়ের সরণিতে ফেরাল গুজরাট টাইটান্সকে। চেন্নাইকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচে পৌঁছল গিল ব্রিগেড।
