ফের একটা ইনিংস। ফের একটা 'ফ্লপ শো' নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের। রবিবাসরীয় সন্ধায় যতক্ষণ ছিলেন, টেস্টের ঢঙে খেলছিলেন। করবেনই বা কী! তাঁর সঙ্গীসাথীরাও সমান ব্যর্থ। টিম সেইফার্ট থেকে রভম্যান পাওয়েল, কারওর ব্যাটেই রানের দেখা নেই। তবে অঙ্গকৃষের আউট ঘিরে তৈরি হল চরম বিতর্ক। যা নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নাইট কোচ। তবে বিতর্ক ভুলে অবিস্মরণীয় ইনিংস রিঙ্কুর।তাঁর সহ-অধিনায়কোচিত ইনিংসের সৌজন্যে লখনউয়ের সামনে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিল কেকেআর।
আসা যাক আজব আউটের প্রসঙ্গে। ঠিক কী হয়েছিল? ম্যাচের পঞ্চম ওভারের ঘটনা। প্রিন্স যাদবের মিডল ও অফ স্টাম্পে ব্যাক অফ লেংথ বল মিড অনে ঠেলে রান নিতে ছুটেছিলেন তিনি। অর্ধেক পথ পেরিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গী রাজি ক্যামেরন গ্রিন রাজি ছিলেন না। দ্রুত ঘুরে ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে ডাইভ দেন রঘুবংশী। সেই সময়ই মহম্মদ শামির থ্রো এসে লাগে তাঁর গায়ে। প্রথমে এলএসজি শিবির থেকে হালকা আবেদন উঠলেও বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। রিয়েল টাইমে মনে হয়েছিল, ব্যাটার লাইনে ফেরারই চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্তের জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন মাঠের আম্পায়াররা।
রিপ্লে খতিয়ে দেখে তৃতীয় আম্পায়াররা মনে করেন, রঘুবংশীর 'টার্নিং রেডিয়াস' স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি ঘুরেছিলেন। তাছাড়াও বলের দিকেও তাকিয়েছিলেন। যা তাঁর দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ডাইভ দেওয়ার সময় তিনি পিচের মাঝের অংশ চলে গিয়েছিলেন। সবদিক বিচার করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আউট দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, এমন আজব আউটের নাম কী? উত্তর হল 'অবস্ট্রাটিং দ্য ফিল্ড'। অর্থাৎ ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার 'অপরাধে' আউট তিনি। এমন আউট স্মরণকালে দেখা গিয়েছে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন রঘুবংশী।
বিতর্কিত আউটের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে কেকেআর শিবির। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁকে মাথা নাড়তে নাড়তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় রঘুবংশীকে। বাউন্ডারি লাইনের কাছে গিয়ে তিনি হেলমেট ছুড়ে ফেলেন। ব্যাট মাটিতে আছাড় মারেন। আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ডাগআউটে বসে সহকারী কোচ শেন ওয়াটসনও একেবারে অবাক! হেডকোচ অভিষেক নায়ারকে বাউন্ডারির বাইরে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। রিঙ্কু সিংও এগিয়ে এসে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। রঘুবংশীর এই অস্বাভাবিক বিদায়ে চাপে পড়ে কেকেআর। তখন দলের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৭ রান।
এর আগে ১৫ বলে ১০ রানে আউট হয়েছেন রাহানে। সেইফার্ট ফিরে গিয়েছেন রানের খাতা না খুলেই। রঘুবংশীর বিদায়ের পর নিজের কাঁধে দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল পাওয়েলের। সেই তিনি ফিরলেন মাত্র ১ রানে। উইকেটে তখন আগুন ঝরাচ্ছেন মহসিন খান। ৩১ রানে চার উইকেট খুইয়ে যখন ধুঁকছে, তখন পালটা আক্রমণ শুরু করেন অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু ২১ বলে ৩৪ রানের বেশি করতে পারলেন না কেকেআরের ২৫ কোটি তারকা। মহসিনের বলে একবার জীবন ফিরে পেয়েও শিক্ষা নিলেন না তিনি। গ্রিনের পরের বলেই আউট অনুকূল রায়। ২৩ রানে ৫ উইকেট নিলেন মহসিন। এরপর আউট হলেন রমণদীপও (৬)। তবে নাইটদের জন্য একা কুম্ভ হয়ে লড়লেন রিঙ্কু সিং। গত ম্যাচেও তাঁর ব্যাটেই এবারের মরশুমে প্রথম জয় পেয়েছিল কলকাতা। সেই ফর্ম বজায় রেখে এদিন অপরাজিত থাকলেন ৫১ বলে ৮৩ রান। শেষ ওভারে দিগ্বেশ রাঠিকে চারটি ছয় মারলেন। উঠল ২৬ রান। সব মিলিয়ে মারলেন সাত চার, পাঁচ ছক্কা। চাপের মুখে তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে সম্মানজনক ১৫৫ রানে পৌঁছল কেকেআর। এই ম্যাচে জিততে গেলে নাইট বোলারদের অবিশ্বাস্য কিছু করতে হবে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে চর্চায় রঘুবংশীর আউট।
