লখনউয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গেলেন রিঙ্কু সিং। ধারাভাষ্যকার প্রশ্নটা করলেন। “আপনার নামটা কী বদলে দিয়ে সংকটমোচন রাখব?” রিঙ্কু একবার হাসলেন। তারপর বললেন, “নাহ, আমি রিঙ্কুই ঠিক আছি!”
সত্যি বলতে কী, রবিবারের পর কেকেআর রিঙ্কুর নতুন একটা নাম দিতে পারে। রিঙ্কু ‘সংকটমোচন’ সিং। ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে টিমকে প্রথম জয় এনে দিয়েছিলেন। আর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রিঙ্কু যা করলেন, সেটা এককথায় অতিমানবীয়। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় কেকেআর। ৩১ রানের মধ্যে চারটে উইকেট চলে যায়। সেখান থেকেই টিমকে টানতে থাকেন রিঙ্কু। শেষ ওভারে টানা চারটে ছয়। সেটাই কেকেআরকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। তারপর ফিল্ডিংয়ে পাঁচটা ক্যাচ (একটা সুপার ওভারে)।
রিঙ্কু বলছিলেন, “আমি যখন ব্যাট করতে যাই, তিন-চারটে উইকেট চলে যায়। আমার লক্ষ্য ছিল, কী করে ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। আমি ওই সময় স্ট্রাইক রোটেট করার কথা ভেবেছি। আর কীভাবে বাউন্ডারি আসবে, সেটার পরিকল্পনা করছিলাম। একটাই লক্ষ্য ছিল, ম্যাচটা শেষপর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। যেহেতু উইকেট যাচ্ছিল, ঠিক করে নিয়েছিলাম বেশি ঝুঁকি নেব না। সিঙ্গল-ডবল নেব। আর শেষপর্যন্ত ক্রিজে থাকব। খারাপ বল পেলে, বাউন্ডারি মারব। শেষ ওভারে দেখলাম স্পিনার বোলিং করছে। সেই অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করেছি।”
এ তো গেল ব্যাটিং। ফিল্ডিংয়েও একইরকম দুর্ধর্ষ কেকেআর সহ অধিনায়ক। যা নিয়ে রিঙ্কুর বার্তা, “ছোট থেকেই ফিল্ডিং করতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি বেশ ফিট। তাই বেশি জোরে দৌড়তে পারি। যার ফলে মাঠে অনেকটা জায়গা কভার করে নিতে পারি। সত্যি বলতে কী, মাঠে সবসময় ফিল্ডিংটাই উপভোগ করি।” সুপার ওভারে এডেন মার্করামের ক্যাচটা আবার দিক পরিবর্তন করে ধরলেন রিঙ্কু। লং অন বাউন্ডারির কাছে প্রথমে বলটা তালুবন্দি করেছিলেন রভম্যান পাওয়েল। তবে বুঝতে পেরেছিলেন, অতিরিক্ত গতির জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবেন। দ্রুত বলটা লং অফের দিকে ছুড়ে দেন পাওয়েল। রিঙ্কু তখন অনেকটাই লং অনের দিকে চলে এসেছিলেন। সেখান থেকে দিক বদলে গিয়ে ক্যাচ ধরেন তিনি। যা নিয়ে পরে তিনি বলছিলেন, “সত্যি বলতে, আমি তৈরি ছিলাম না। ভেবেছিলাম বলটা অন্য দিকে যাবে। আমার দিকে আসার পর কোনওরকমে বলটা ধরেছি।”
