টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সুপার ওভারে মেডেন নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব কার? উত্তর হল সুনীল নারিনের। যা তিনি নিয়েছিলেন এক যুগ আগে। সেই নারিনই লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে বল হাতে দায়িত্ব নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জিতিয়েছেন। তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম খরুচে বোলার। অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা রাখেন তিনি। প্রশ্ন হল, কার পরামর্শে তাঁকে সুপার ওভারে বল দেওয়া হয়েছিল? ম্যাচ জিতিয়ে নারিন নিজেই দিলেন এর উত্তর।
মাত্র তিনটি বলেই প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারকে আউট করেছেন তিনি। ম্যাচের পর তিনি নিজেই জানিয়েছেন, সুপার ওভারে বল করতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
মাত্র তিনটি বলেই প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারকে আউট করেছেন তিনি। ম্যাচের পর তিনি নিজেই জানিয়েছেন, সুপার ওভারে বল করতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। "এই পরিস্থিতিতে আপনার হাতে কোনও বিকল্প থাকে না। সুপার ওভার সবসময়ই কঠিন। তবে আগে বল করলে সেটা কিছুটা সহজ হয়ে যায়।" বলছেন নারিন। সুপার ওভারে প্রতিপক্ষের বিধ্বংসী ব্যাটার নিকোলাস পুরানকে আউট করেছেন তিনি। তাও আবার প্রথম বলেই। তাঁর কথায়, "এই ধরনের পরিস্থিতিই বিষয়টাকে আরও স্পেশাল করে তোলে। দলের জন্য সত্যিই খুব খুশি আমি। আমরা কিছুটা ছন্দ হারিয়েছিলাম। কিন্তু এক ম্যাচ করে এগোতে পারলে আমরা আবার ভালো খেলব।”
ম্যাচের ২০তম ওভারে লখনউয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৭ রান। ওই ওভারে অনভিজ্ঞ কার্তিক ত্যাগীর সাদামাটা বোলিং নাইটদের মুশকিলে ফেলেছে। চাপের মুহূর্তে দু'টি নো বল-সহ দুর্বল লাইন লেংথে বোলিং খুব সহজেই পড়ে ফেলেছিলেন মহম্মদ শামি। শেষ বলে তিনি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান সুপার ওভারে। সবাই যখন এই পরিস্থিতির জন্য কার্তিকের অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করছেন, সেই সময় সতীর্থর পাশে দাঁড়িয়েছেন নারিন। "এই ধরনের পরিস্থিতিতে বল করা খুবই কঠিন। সিনিয়র হোক বা জুনিয়র, সকলের কাছেই কঠিন। প্রতিটি ভুল থেকেই শেখার চেষ্টা করতে হয়। তা শুধরে নিতে হয়।" মন্তব্য ক্যারিবিয়ান স্পিনারের।
নারিনের কথায়, "এই ধরনের পরিস্থিতিই বিষয়টাকে আরও স্পেশাল করে তোলে। দলের জন্য সত্যিই খুব খুশি আমি। আমরা কিছুটা ছন্দ হারিয়েছিলাম। কিন্তু এক ম্যাচ করে এগোতে পারলে আমরা আবার ভালো খেলব।”
প্রশ্ন হল, নারিনকে সুপার ওভারে কার পরামর্শে বোলিং দেওয়া হয়েছিল নারিনকে। উত্তর দিয়েছেন তিনি স্বয়ং। বলেন, "গোটা দল আমার পাশে ছিল। সবাই যখন একই কথা বলল, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়ে যায়। সব কোচই বলেছিলেন, আমাকেই বল করতে হবে। আমিও রাজি হয়ে যাই।"
২০১৪ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স বনাম ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিল ম্যাচে সুপার ওভারে মেডেন নেওয়ার কীর্তি গড়েন সুনীল নারিন। জেতার জন্য মাত্র ১২ দরকার ছিল আমাজন ওয়ারিয়র্সের। কিন্তু নারিনের বোলিং পরিসংখ্যান ০, ০, ০, ০, উইকেট, ০। ঘটনাচক্রে সেদিনও ক্রিজে ছিলেন নিকোলাস পুরান। তাঁকে পঞ্চম বলে সাজঘরে পাঠান ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। শেষ বলে রস টেলর এসেও তাঁর বলে সুবিধা করতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে এটিই একমাত্র মেডেন সুপার ওভার। এবার আইপিএল ম্যাচেও নারিন বুঝিয়ে দিলেন সুপার ওভারে তিনিই আদি এবং অকৃত্রিম ম্যাচ উইনার।
