টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা ক্রমেই যেন ব্যাটিং-সর্বস্ব হয়ে উঠছে। বোলারদের সঙ্গে বোলিং মেশিনের বিশেষ কোনও তফাত নেই আর। এবারের আইপিএলেই যেমন। সব স্টেডিয়ামেই দু’শোর বেশি রান উঠছে নিয়মিত। এমনকী সেই রান তাড়া করে জেতা ম্যাচের সংখ্যাও কম নয়।
একটু ভুল হল। সব স্টেডিয়ামেই রান মহোৎসব হচ্ছে, এমনটা নয়। ব্যতিক্রমও আছে। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়াম। বোলারদের জন্য যেন এক টুকরো ‘মরুদ্যান’। যে মাঠের পিচ দেখে ওয়াকার কথা মনে পড়ছে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের মতো কিংবদন্তিরও। এবারের আইপিএলে (IPL 2026) এখনও পর্যন্ত একানায় একবারও দু’শোর ধারেকাছে যেতে পারেন কোনও দল। সর্বোচ্চ স্কোর ১৬৫-৩। শুধু তাই নয়, প্রথমে ব্যাট করে জয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন স্কোরের ম্যাচটাও হয়েঠে এই স্টেডিয়ামে। শেষ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস মাত্র ১৫৯-৬ রান তুলেও জিতেছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) বিরুদ্ধে। রবিবার সেই মাঠে নামার আগে এসব পরিসংখ্যান আশাবাদী করছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR)। সে যতই ইডেনে নাটকীয় শেষ ওভারে এলএসজি ম্যাচ জিতুক না কেন।
রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় নবাবের শহরে লড়াইটা পয়েন্ট টেবিলের শেষ দুই দলের মধ্যে। এলএসজি ন’য়ে, কেকেআর ‘লাস্ট বয়’। তবে নাইটরা জিততে পারলে উলটে যাবে অবস্থান। আর জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠা অনুকূল রায় যেমন শুনিয়ে গেলেন, “দলের সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী। বোলাররা ভালো পারফর্ম করছিলই। ব্যাটাররাও এখন ফর্মে ফিরছে। জেতার জন্য সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে তৈরি।” আসলে কেকেআর অলরাউন্ডারের এমন আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কয়েকটা কারণ রয়েছে। যেমন, শেষ চারটে ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি এলএসজি। সঙ্গে একানায় দু’বছরে টানা সাতটা ম্যাচ হেরেছে তারা। ‘ঘরের মাঠ’ যেন বধ্যভূমি হয়ে উঠেছে তাদের জন্য। সেখানে শেষ ম্যাচে এবারের আইপিএলে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে কেকেআর। টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকার পর। চেনা ফিনিশার অবতারে প্রত্যাবর্তন হয়েছে রিঙ্কু সিংয়ের। অনুকূলও ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন।
নাইটদের আত্মবিশ্বাসের প্রধানতম উৎস নিশ্চিতভাবেই মাথিশা পাথিরানার দলে যোগ দেওয়াটা। এবার দলের পেস অ্যাটাকটা হর্ষিত রানা আর পাথিরানাকে কেন্দ্র করেই সাজিয়েছিল কেকেআর। হর্ষিত পায়ের চোটে আগেই প্রতিযোগিতার বাইরে চলে গিয়েছেন। পাথিরানাও ফিটনেস সমস্যায় এতদিন বাইরে ছিলেন। অবশেষে দিন কতক আগে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন তিনি।
তবে নাইটদের আত্মবিশ্বাসের প্রধানতম উৎস নিশ্চিতভাবেই মাথিশা পাথিরানার দলে যোগ দেওয়াটা। এবার দলের পেস অ্যাটাকটা হর্ষিত রানা আর পাথিরানাকে কেন্দ্র করেই সাজিয়েছিল কেকেআর। হর্ষিত পায়ের চোটে আগেই প্রতিযোগিতার বাইরে চলে গিয়েছেন। পাথিরানাও ফিটনেস সমস্যায় এতদিন বাইরে ছিলেন। অবশেষে দিন কতক আগে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন তিনি। মাঝে অনুশীলনে ছুটি থাকায় একেবারে লখনউ গিয়েই দলের সঙ্গে নেট শুরু করেছেন শ্রীলঙ্কা পেসার। আর যা খবর, নেটে বেশ ভালো ছন্দেই রয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে এলএসজি'র বিরুদ্ধেই বেগুনি জার্সিতে অভিষেক হবে পাথিরানার। সেক্ষেত্রে রভম্যান পাওয়েলকে বসানো হতে পারে। এমনিতে এবার কার্তিক ত্যাগী বেশ ভালো বল করছেন। শেষ ম্যাচে পুরনো অবতারে দেখা দিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। ফলে ব্যাটিং একটু নড়বড়ে থাকলেও বোলিংয়ে ভর করে জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কেকেআর।
এলএসজি শিবিরে আবার কোনওটাই ঠিকঠাক হচ্ছে না। মহম্মদ শামি আর প্রিন্স যাদব ছাড়া বোলিং বিভাগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নেই কারও। ব্যাটিংয়ে অবস্থা আরও খারাপ। অধিনায়কত্ব না ব্যাটিং, ঋষভ পন্থ কোনটা বেশি খারাপ করছেন বলা মুশকিল। মিচেল মার্শ, এডেন মার্করাম, নিকোলাস পুরানরা নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ। মুকুল চৌধুরী ইডেনে জেতানোর পর আর তেমন কিছু করতে পারেননি। শেষ ম্যাচে রীতিমতো ধস নেমেছিল এলএসজি ব্যাটিং লাইন আপে। তার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই এখন চ্যালেঞ্জ ল্যাঙ্গারদের।
আজ আইপিএলে
লখনউ সুপার জায়ান্টস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স
সন্ধ্যা ৭.৩০, লখনউ
স্টার স্পোর্টস
