স্টাফ রিপোর্টার: আইপিএল ক্রমেই এগোচ্ছে ‘বিজনেস এন্ডের’ দিকে। পয়েন্ট টেবিলের মাঝের দিকে থাকা দলগুলির পরিস্থিতি প্রায় এক। প্রতিটা ম্যাচই কার্যত বাঁচা-মরার। হার তো পরের কথা, একটা ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট হলেও কার্যত শেষ হয়ে যাবে প্লে-অফের স্বপ্ন।
টেবলে সাতে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালস এবং আটে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের পরিস্থিতি এখন তেমনই। দিল্লি দশ ম্যাচে আট পয়েন্ট, কেকেআর নয় খেলে সাত। পয়েন্ট টেবলের গতিপ্রকৃতি বলছে, এবার ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ‘কাট অফ’ হবে অন্তত ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ দিল্লি আর কেকেআরের কাছে পয়েন্ট নষ্টের কোনও সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অবশ্য কিছুটা অ্যাডভান্টেজ নিয়েই নামবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবছর কোটলায় পাঁচ ম্যাচে চারবারই জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। ব্যতিক্রম যে ম্যাচ, তাতে শেষ দু’বলে দু’রান করতে পারেনি দিল্লি। অর্থাৎ কোটলায় রান তাড়া করাটা নিরাপদ সিদ্ধান্ত। সেখানে প্রথম ছ’ম্যাচে জয়হীন কেকেআর শেষ তিনটে ম্যাচই জিতেছে পরে ব্যাটিং করে। আবার ঘরের মাঠে আগে ব্যাটিং করে শেষ তিনটে ম্যাচই হেরেছে দিল্লি। যার মধ্যে যেমন ২৬৪ রান ডিফেন্ড না করতে পারার মতো ব্যর্থতা আছে, তেমনই আছে ৭৫ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া। টেবলে একধাপ উপরে থাকলেও শুক্র-সন্ধ্যায় এসব তথ্য চাপে রাখবে দিল্লিকে।
যা খবর, কেকেআরের বিরুদ্ধে কোটলার ছ’নম্বর উইকেটে খেলতে পারে দিল্লি। যেখানে সম্প্রতি ৫২৯ রান উঠেছিল দু’ইনিংস মিলিয়ে। আসলে সেভাবে স্পিন সামলাতে পারছেন না কেএল রাহুলরা। কুলদীপ যাদব-অক্ষর প্যাটেলরাও ছন্দে নেই। ফলে ফর্ম ফিরে পাওয়া সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ‘হাইওয়ে’ পিচেই ভরসা রাখছে দিল্লি ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম ছ’ম্যাচে জয়হীন কেকেআর শেষ তিনটে ম্যাচই জিতেছে পরে ব্যাটিং করে। আবার ঘরের মাঠে আগে ব্যাটিং করে শেষ তিনটে ম্যাচই হেরেছে দিল্লি।
বৃহস্পতিবার কেকেআর মেন্টর ডোয়েন ব্রাভো শোনাচ্ছিলেন, “খেলায় ফলাফলই আসল। যাবতীয় আবেগ সেখান থেকেই আসে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভালো না গেলেও বরুণ বিশ্বমানের বোলার। কিছুটা বিরতি পেয়ে ফর্মে ফিরেছে। ওর ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কখনই সন্দেহ ছিল না।” দিল্লির চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবের সময় আবার ভালো যাচ্ছে না। দিল্লির তারকা ব্যাটার ডেভিড মিলার অবশ্য পাশে দাঁড়াচ্ছেন কুলদীপের। “আমরা খারাপ খেলছি এমন নয়। কয়েকটা মুহূর্তের ব্যর্থতা আমাদের হারের কারণ। আলাদাভাবে কাউকে দোষ দিতে চাই না। কুলদীপ ভালো বোলার। বিশ্বমানের স্পিনার। দল ভরসা রাখছে ওর উপর। শেষ দশটা ম্যাচ থেকে কিছু ইতিবাচক বিষয় নজরে এসেছে।”
টেবলে সাতে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালস এবং আটে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের পরিস্থিতি এখন তেমনই। দিল্লি দশ ম্যাচে আট পয়েন্ট, কেকেআর নয় খেলে সাত। পয়েন্ট টেবলের গতিপ্রকৃতি বলছে, এবার ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ‘কাট অফ’ হবে অন্তত ১৬ পয়েন্ট।
নাইট বোলিংয়ে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে ব্যাটিং নিয়ে অস্বস্তির মেঘ সেভাবে কাটেনি এখনও। মিডল অর্ডারে রিঙ্কু সিং ফর্মে ফিরেছেন। তবে টপ অর্ডারে ফিন অ্যালেন, অজিঙ্ক রাহানে, অঙ্গকৃষ রঘুবংশীরা একেবারেই ধারাবাহিক নন। শেষ তিন ম্যাচেই বোলিং এবং রিঙ্কুর ব্যাট জিতিয়েছে দলকে। ব্রাভো অবশ্য বলছেন, “আমরা সব ম্যাচই নিজেদের শেষ ম্যাচ হিসেবে দেখছি। দলকেও সেভাবে বলা বয়েছে। আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। কিন্তু এখন দল উন্নতি করেছে। জয়ের হ্যাটট্রিকে সবাই আত্মবিশ্বাসী। আপাতত শেষ কয়েকটা ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য।” সেই লক্ষ্যপূরণের প্রথম পর্বে শুক্রবার কোটলায় নামছে কেকেআর।
