মরশুমের শুরুতে তারা অপ্রতিরোধ্য ছিল। একটাও ম্যাচ না হেরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল। কিন্তু পরপর চারটি ম্যাচ হেরে চাপে পড়ে গেল শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব কিংস। কথায় বলে, কারো পৌষমাস কারো সর্বনাশ। পাঞ্জাবের খারাপ ফর্মে অনেকটাই উজ্জ্বল হল কেকেআরের প্লে অফ স্বপ্ন। নাইটদের সামনে কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এখনও প্লে অফে ওঠার সুযোগ রয়েছে অজিঙ্ক রাহানেদের সামনে।
সোমবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল পাঞ্জাব। ঘরের মাঠ ধরমশালায় প্রথমে ব্যাট করে পাঞ্জাব ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ২১০ রান। শ্রেয়সের (৫৯ অপরাজিত) দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি, প্রিয়াংশ আরিয়ার ৫৬ এবং কুপার কনোলির ৩৮ রানের সৌজন্যে পাঞ্জাব দুশোর উপর রান তোলে। রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় মনে হয়েছিল, দিল্লি খুব বেশিদূর যেতে পারবে না। কিন্তু দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এবং ডেভিড মিলার একটু অন্যরকম ভেবেছিলেন। ৭৪-৪ এই অবস্থা থেকে দিল্লিকে টেনে তুললেন এই দুই ব্যাটার। অক্ষর ৩০ বলে ৮টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে করলেন ৫৬ রান। আর মিলার ৫১ রান করলেন তিনটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে। শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় দিল্লি।
আরসিবি এবং গুজরাট টাইটান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাইটদের ম্যাচ খেলতে হবে। ওই ম্যাচগুলি জিততে পারলেই প্লে অফের রাস্তা অনেকখানি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপর ঘরের মাঠে মুম্বই এবং দিল্লির বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সহজ ম্যাচ।
এদিনের জয়ের ফলে দিল্লি ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে সাতে রয়েছে। ক্রমাগত হারতে হারতে এই জয় অনেকখানি অক্সিজেন জোগাবে কে এল রাহুলদের। সোমবার হারের পর পাঞ্জাব ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চারেই রয়ে গেল। তবে প্লে অফের আশা এখনও রয়েছে তাদের। একই সঙ্গে কেকেআরের আশাও অনেকটা উজ্জ্বল হয়েছে পাঞ্জাবের হারে। অঙ্কের নিরিখে নাইটদের প্লে অফে যাওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। আপাতত নাইটদের ঝুলিতে রয়েছে ৯ পয়েন্ট। অষ্টম স্থানে রয়েছেন রিঙ্কু সিংরা।
চলতি আইপিএলে এখনও চারটে ম্যাচ খেলা বাকি আছে কেকেআরের। প্রত্যেকটায় জিতলে ১৭ পয়েন্টে পৌঁছবে নাইটরা। তাহলে প্লে অফ খেলার সম্ভাবনা প্রবল। রান রেট খারাপ থাকলেও সেক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। তবে আরসিবি এবং গুজরাট টাইটান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাইটদের ম্যাচ খেলতে হবে। ওই ম্যাচগুলি জিততে পারলেই প্লে অফের রাস্তা অনেকখানি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপর ঘরের মাঠে মুম্বই এবং দিল্লির বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সহজ ম্যাচ। ফলে টানা ৬ ম্যাচ জয়ের মুখ না দেখলেও নাইটদের ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ এখনও রয়েছে।
