লখনউ সুপার জায়ান্টস: ২০৩/৮ (ইংলিশ ৮৫, শাহবাজ ৪৫*, ওভার্টন ৩৬/৩)
চেন্নাই সুপার কিংস: ২০৮/৫ (উর্ভিল ৬৫, রুতুরাজ ৪২, শাহবাজ ৩০/২)
৫ উইকেটে জয়ী চেন্নাই সুপার কিংস।
আইপিএলের শুরুটা ভালো হয়নি চেন্নাই সুপার কিংসের। ধোনিহীন দল শুরুতে হারের হ্যাটট্রিক করেছিল। সেখান থেকে কামব্যাক শুরু রুতুরাজ গায়কোয়ারদের। এবার চিপকে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৫ উইকেট উড়িয়ে দিল সিএসকে। যার নেপথ্যে উর্ভিল প্যাটেলের তাণ্ডব। মাত্র ১৩ বলে হাফসেঞ্চুরি করে চেন্নাইয়ের জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দিলেন। জয়ের হ্যাটট্রিকে প্লেঅফের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন সঞ্জু স্যামসনরা। তাতে চাপে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে এই হারে এবারের মতো প্লেঅফের স্বপ্নভঙ্গ ঋষভ পন্থের লখনউয়ের।
চিপকে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ। শুরুতেই ঝড় তুলে দেন জস ইংলিশ। লখনউ অভিযানের শুরুর দিকে দলে ছিলেন না অজি ক্রিকেটার। ফিরেই বুঝিয়ে দিলেন, কীসের অভাব ছিল লখনউয়ের। একটু দেরিতে হলেও ইংলিশের আগমন লখনউ ব্যাটিংকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে। মাত্র ৩৩ বলে ৮৫ রান করেন তিনি। মারেন ১০টা চার ও ৬টি ছয়। স্ট্রাইক রেট ২৫৭.৫৮। সেই তুলনায় দলের বাকিদের কারও সাহায্য পেলেন না। 'মাথা ভারী' টপ অর্ডারে মিচেল মার্শ (১০), নিকোলাস পুরান (১), আইডেন মার্করাম (৬) সবাই ব্যর্থ। ঋষভ পন্থের ব্যাটে এখনও রানের দেখা নেই। লখনউ অধিনায়ক এদিন করেন মাত্র ১৫ রান। ফলে রানের গতি অনেকটা কমে যায়। সেখান থেকে যে লখনউয়ের রান ২০০ পেরোল, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বাংলার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের। বাংলার হয়ে ফিনিশারের দায়িত্ব পালন করা শাহবাজ ২৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। চেন্নাইয়ের জেমি ওভার্টন ৩৬ রান দিয়ে ৩ এবং অংশুল কাম্বোজ ৪৭ রান দিয়ে ২ উইকেট তোলেন। লখনউ থাকে ২০৩ রানে।
জবাবে রুতুরাজ গায়কোয়ার (৪২) ও সঞ্জু স্যামসন (২৮) ওপেনে নেমে চেন্নাইয়ে শক্ত মঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়। কিন্তু তারপর উর্ভিল যেটা করলেন, সেটা সম্ভবত কেউই আশা করেননি। প্রথম বলটায় শর্টরান নেন। তারপরের পাঁচ বলে পাঁচটি ছক্কা। তারপর একটি চার ও ফের ছক্কা। আবার একটি শর্টরান, একটি ডট ও তার পরে ফের ছক্কা। শেষমেশ ১৩ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। যা আইপিএলের ইতিহাসে যুগ্মভাবে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৬৫ রান করে আউট হন উর্ভিল। এবারও হাত ঘুরিয়ে সাফল্য পেলেন শাহবাজ। সেখান থেকে ম্যাচে ফিরতে পারত লখনউ। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও কার্তিক শর্মাকে অল্প রানে ফিরিয়ে সুবিধা করে দেন আভেশ খান, দ্বিগেশ রাঠীরা। কিন্তু একাধিক ক্যাচ মিসে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলল লখনউ। প্রশান্ত বীরের জোড়া ক্যাচ হাতছাড়া হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই। সমস্ত শক্তি ব্যয় করে ফেলায় শেষ ওভার মার্করামকে দিতে বাধ্য হন পন্থ। পরপর দু'টি ওয়াইড ও টানা দুই ছক্কায় ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলেন শিবম দুবে। ৫ উইকেটে জিতে প্লেঅফের দৌড়ে ঢুকে পড়ল চেন্নাই।
এই জয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে চেন্নাই সুপার কিংস। পিছনে ফেলে দিল রাজস্থান রয়্যালসকেও। অন্যদিকে কেকেআরের ১০ ম্যাচে পয়েন্ট ৯। ফলে চাপ বাড়ল অজিঙ্ক রাহানেদের উপর। আর ১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষে লখনউ। বাকি তিন ম্যাচও জিতলে পয়েন্ট হবে ১২। প্লেঅফের ছাড়পত্র পেতে যেটা যথেষ্ট হবে না।
