গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে জয়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু একটা ম্যাচ যেতে না যেতেই ফের কঙ্কালসার চেহারাটা স্পষ্ট হল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে। আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’তে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে একতরফাভাবে হারাল চেন্নাই সুপার কিংস। ১০৩ রানে হেরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জার নজির গড়েছে তারা। একই সঙ্গে আতশ কাচের নিচে হার্দিক পাণ্ডিয়ার নেতৃত্ব।
২০২৪ সালে রোহিত শর্মার কাছ থেকে নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন হার্দিক। সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মুম্বইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর কথায়, "হার্দিককে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে আনা নিঃসন্দেহে 'ইন্টারেস্টিং' সিদ্ধান্ত। কিন্তু অনেক সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এমন কিছু করে বসে, যা খবরের শিরোনামে থাকে। কারণ তারা আসলে একটি কমার্শিয়াল ব্র্যান্ড। তাই এটা সম্পূর্ণ ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।"
গুজরাট টাইটান্সে হার্দিকের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গুজরাটে ওর সাফল্যের পিছনে আশিস নেহরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই হার্দিককে নেওয়ার পাশাপাশি নেহরাকেও আনার কথা ভাবা যেত।" এছাড়া মুম্বই দলে নেতৃত্ব বদলের সময় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত দেন মঞ্জরেকর। তাঁর মতে, "তখন জশপ্রীত বুমরাহ, রোহিত শর্মা বা সূর্যকুমার যাদবের মতো অনেক বড় নামকে ছাপিয়ে অধিনায়ক করা হয়েছিল হার্দিককে। তবে প্রথম মরশুমে সিনিয়রদের পূর্ণ সমর্থন না পাওয়ায় ওর উপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছিল।"
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়াও যে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি, "ভাবুন, একজন অধিনায়ক টসে নামছে আর নিজের সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হচ্ছে। এটা সত্যিই কঠিন বাস্তব।" উল্লেখ্য, হিটম্যানের কাছ থেকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর থেকে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা আগের ছন্দে ফিরতে পারেনি। ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছেন হার্দিক। ২০২৪ সালে তাঁর নেতৃত্বে মুম্বই ১৪ ম্যাচ জয় পেয়েছিল চার ম্যাচে। জয়ের শতাংশ ২৮.৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে ১৬ ম্যাচে ৯টি জয় পেলেও ফাইনালে উঠতে পারেনি মুম্বই। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নেতৃত্ব পরিবর্তন কি শুধুই ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা, নাকি এর পিছনে বাণিজ্যিক কৌশলও কাজ করেছে? উত্তর খুঁজছে ক্রিকেট মহল।
