৬, ৭, ৯। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে নামার আগে আইপিএলে টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। করেছিলেন মাত্র ২২ রান। পরবর্তী চার ম্যাচে করলেন ২৭১ রান। এর মধ্যে দু-দু'টি সেঞ্চুরি। দিল্লির বিরুদ্ধে ৫৬ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকার পর চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকলেন চেন্নাই তারকা। আইপিএলে যেন রানের কবিতা লিখছেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। আর তাতে মজেছেন শশী থারুর (Shashi Tharoor)। 'ব্রাত্য' তারকাকে নিয়ে দীর্ঘ কবিতা লিখেছেন তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ।
থারুরের সঙ্গে সঞ্জুর সম্পর্ক সকলেই জানেন। দীর্ঘদিন ধরে যখন ভারতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখনও এই উইকেটরক্ষকের পাশে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতীয় দল থেকে সঞ্জুর বাদ পড়ার পর সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। এমনকী চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যখন সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখনও সঞ্জুর পাশে থেকেছেন। বৃহস্পতিবার মারলেন ১০টি চার ও ছ’টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১৮৭.০৪। তাঁর ব্যাটের দাপটে ভর করেই ওয়াংখেড়েতে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে সিএসকে তোলে ২০৭ রান। সেই রান পেরতে গিয়ে ১০৪ রানে মুখ খুবড়ে পড়ল মুম্বই। ১০৩ রানে জয়ী সিএসকে।
এমন কাব্যিক ইনিংসের পর সোশাল মিডিয়ায় কলম ধরলেন শশী থারুর। কবিতার মাধ্যমে সঞ্জুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। শেন ওয়াটসনের পরে সিএসকের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে একই মরশুমে দু'টি সেঞ্চুরির নজির গড়লেন তিনি। থারুরের লেখা কবিতাটি ক্লাসিক AABB ছন্দে রচিত। বাংলায় যার নাম যুগ্মক মিত্রাক্ষর বা যুগ্মক ছন্দ। অর্থাৎ এই কবিতায় দু'টি করে পঙক্তির শেষে মিল রয়েছে। সঞ্জুর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ থারুর লিখলেন, 'এক বিশেষ লাবণ্য যেন বাতাসে ভাসে...'। তিনি লিখেছেন, জয়পুরের ঝলমলে আলো থেকে শুরু করে ওয়াংখেড়ের প্রখর রোদ, প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সিদ্ধহস্ত স্পঞ্জু। চিপক থেকে ডারবান, সর্বত্রই সাবলীল তিনি। নেটিজেনরা বলছেন, সঞ্জুর ব্যাটিংয়ের মসৃণতা ও ছন্দময়তাকেই প্রতিফলিত করছে এই কবিতা। কেউ লিখছেন, 'থারুর বোঝাতে চেয়েছেন, কেবল টি-টোয়েন্টি নয়, ভারতের হয়ে সমস্ত ফরম্যাটে সুযোগ প্রাপ্য সঞ্জুর। অজিত আগরকররা কি শুনতে পাচ্ছেন?'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে রয়েছে সঞ্জুর অনবদ্য পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের শেষ তিনটি ম্যাচেই তিনি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার এইটের ম্যাচে ৯৭, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৮৯ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৮৯ করেন। টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কারও পান তিনি। মূলত তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ের ভিত। বৃহস্পতিবার সন্ধায় সেই প্রত্যয়ই দেখা গেল তাঁর ব্যাটে। এই ম্যাচেও নামতে পারেননি ধোনি। তাই বাড়তি নজর ছিল সঞ্জুর দিকে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও নিরাশ করলেন না। তাতে মুগ্ধ শশী থারুর-সহ সকলে।
